জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে পৌঁছান তিনি।
এ সময় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সাক্ষাৎ শেষে রাত ৮টার দিকে জামায়াত আমিরের বাসভবন ত্যাগ করেন তারেক রহমান।

সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা করি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, আমি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করব; তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকব। সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানে জবাবদিহির প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয়, বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয়, বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।