স্বস্তি নয় সংখ্যা নিয়ে হাসান , নতুন খবর |

 

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় শীত মৌসুমে দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমেছে। যদিও আশঙ্কা ছিল শীতে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে মহামারি করোনা। সবশেষ শনিবার গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশে।

তবে সংখ্যানগত দিক দিয়ে করোনা নিয়ে স্বস্তি মিললেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এমনটা মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করছেন, যেকোনো সময় মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার যেকোনো সময় উর্ধ্বমুখী হতে পারে এমন আশঙ্কা মাথায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনোভাবেই হাল ছেড়ে দেওয়া বা শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। বরং আগের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ তাদের।

একই সঙ্গে করোনার পরীক্ষা বাড়ানো, আইসোলেশন ও কোয়ারেনটাইনের ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, কিছুদিন ধরে সংক্রমণের হার কমেছে ঠিকই কিন্তু এই হারকে নিরাপদ বলা যাবে না। শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে কয়েক সপ্তাহ থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৯ মে ৬৩৬ জন আক্রান্ত হওয়ার পর গতকাল শনিবার দেশে সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৯ হাজার ৫০৯টি নমুনা সংগ্রহ করার পর পরীক্ষায় ৬৮৪ জন শনাক্ত হয়। সে হিসাবে এখন পর্যন্ত দেশে শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ জন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৩ জন। এখন পর্যন্ত দেশে মারা গেছেন ৭ হাজার ৫৯৯ জন। আর মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬২০ জন।

তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হর ৮৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মৃত্যু হার এক দশমিক ৪৮ শতাংশ।

দেশে গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনা শনাক্ত হয়। গত শুক্রবার পর্যন্ত ৩০০ দিন পার হয়েছে। রাজধানী থেকে সারা দেশে এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। শুরুতে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও এক পর্যায়ে বাড়তে থাকে এই হার। গত জুন-জুলাইয়ে শনাক্ত ও মৃত্যু সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। পরে অবশ্য এই হার কিছুটা কমের দিকে আসতে থাকে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হবে। ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অনেক দেশে করোনা পরিস্থিতি আবারো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নতুন করে লকডাউনে গেছে বেশ কয়েকটি দেশ। তবে এই অবস্থার মধ্যে ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য বলছে, বাংলাদেশে শীতের এই সময়টিতে সংক্রমণের হার কমেছে। শুধু তাই নয়, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ডিসেম্বরেই শনাক্তের হার সবচেয়ে কম। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্কতায় ঘাটতি দেখা দিলে এই অবস্থা থেকেও করোনা সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে কয়েকগুণ।

যদিও এরই মধ্যে সরকা

রের পক্ষ থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নানা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হাসপাতালে আইসিইউ বেড বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও সাধারণ মানুষ অবশ্য তা আমলে নিচ্ছে না। এজন্য মাস্ক না পড়লে মোবাইল কোর্টে জরিমানাও গুনতে হচ্ছে। তবে এমন অভিযান হাতেগোনা কিছু জায়গায় পরিচালিত হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে খুব বেশি প্রভাব নেই।
৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের পর এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১ হাজার ৬০২টি। তখন পর্যন্ত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল ৫১ জনের মধ্যে। এপ্রিলে সাত হাজার ৬১৬ জন, মে মাসে ৩৯ হাজার ৪৮৬ জন, জুন মাসে ৯৮ হাজার ৩৩০ জন, জুলাই মাসে ৯২ হাজার ১৭৮ জন, আগস্ট মাসে ৭৫ হাজার ৩৩৫ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৫০ হাজার ৪৮৩ জন, অক্টোবর মাসে ৪৪ হাজার ২০৫ জন, নভেম্বর মাসে ৫৭ হাজার ২৪৮ জন এবং ডিসেম্বর মাসে ৪৮ হাজার ৫৭৭ জন করোনা পজিটিভ ব্যক্তি শনাক্ত হন।

অন্যদিকে দেশে ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মৃত্যু হয়। এ পর্যন্ত মাসের হিসেবে জুলাইয়ে সব থেকে বেশি মানুষ মারা গেছেন করোনায়। মার্চে মোট মারা যায় ৫জন। পরের মাসে মারা যায় ১৬৩ জন। মে মাসে ৪৮২ জন, জুনে এক হাজার ১৯৭ জন, জুলাইয়ে এক হাজার ২৬৪ জন, আগস্টে এক হাজার ১৭০ জন, সেপ্টেম্বরে ৯৭০ জন, অক্টোবরে ৬৭২ জন, নভেম্বরে ৭২১ জন এবং ডিসেম্বরে ৯১৫ জন মারা যান করোনায়।

মার্চ মাস বাদ দিলে ডিসেম্বরে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত কম হয়েছে বলে জানা গেছে। তথ্যমতে, মার্চে করোনা নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এপ্রিলে সংক্রমণের হার ছিল ১২ দশমিক ১২ শতাংশ, মে মাসে ১৬ দশমিক ১৭ শতাংশ ও জুন মাসে ২১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সংক্রমণের হার সর্বোচ্চে পৌঁছায় জুলাই মাসে। ওই মাসে সংক্রমণের হার ছিল ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর আগস্ট মাসে সংক্রমণের হার ছিল কিছুটা কমে ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশে, অক্টোবরে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, নভেম্বরে ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ ও ডিসেম্বরে সংক্রমণ ছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার আলোকে বললে আমরা এখনো করোনার সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। তাই এখনই শিথিলতার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। একটু অবহেলায় বড় ক্ষতি হতে পারে।’

নতুন খবর//তুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.