সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরে যা যা করণীয় , নতুন খবর

এসএসসি পরীক্ষা-২০২০

ভালো ফলাফল অর্জনে নিয়মিত পড়ালেখার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি অনুযায়ী উত্তর প্রদানে পাঠ্যবই সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এ ধরনের প্রশ্ন পদ্ধতি অনুযায়ী একটি উদ্দীপক/দৃশ্যকল্প/সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশ্নটি উপস্থাপন এবং শেষে শিক্ষার্থীদের চারটি দক্ষতার স্তর যাচাই করা হয়। যথা : (ক) জ্ঞানমূলক : জ্ঞানমূলক প্রশ্ন দ্বারা পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞান তথা স্মৃতিশক্তি যাচাই করা হয়।
(খ) অনুধাবনমূলক : এ প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের পঠিত বিষয়বস্তু শিক্ষার্থী কতটা বুঝতে পারল তা যাচাই করা হয়।
জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন দুটি সাধারণত উদ্দীপক-নির্ভর হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে উদ্দীপকের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতাও থাকতে পারে। তবে উদ্দীপক ছাড়াই এ দুটি প্রশ্নের উত্তর বই থেকে সরাসরি দেওয়া যায়।

(গ) প্রয়োগ দক্ষতা : পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞান নতুন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী কীভাবে ব্যবহার করবে, তা প্রয়োগ দক্ষতায় যাচাই করা হয়।
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতা : এক্ষেত্রে পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থী নতুন একটি পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা, মিল, অমিল, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, সমালোচনা ইত্যাদি করতে পারছে কি-না তা যাচাই করা হয়।

প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন দুটি অবশ্যই উদ্দীপক-নির্ভর হবে। উদ্দীপকে উত্তরের ইঙ্গিত থাকবে, তবে সরাসরি উত্তর থাকবে না।
বহুনির্বাচনী প্রশ্নের ক্ষেত্রেও জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ এবং উচ্চতর দক্ষতার স্তরগুলো যাচাই করা হয়। বহুনির্বাচনী প্রশ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা :
(ক) সাধারণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন : এক্ষেত্রে একটি বাক্যের মাধ্যমে সরাসরি উত্তর চাওয়া হয়। প্রশ্নের নিচে চারটি ঘনিষ্ঠ বিকল্প উত্তর থাকে।

(খ) বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন : তিনটি তথ্য/ধারণা/বিবৃতি রোমান সংখ্যা র, রর, ররর দ্বারা এ ধরনের প্রশ্নটি করা হয়। তিনটির মধ্যে একটি/দুটি/তিনটিও সঠিক হতে পারে। সে অনুযায়ী নিচে চারটি বিকল্প উত্তর দেওয়া থাকে এবং কোনটি সঠিক তা জানতে চাওয়া হয়। সাধারণত এ প্রশ্নের মাধ্যমে মুখস্থনির্ভর/ স্মৃতিনির্ভর নয় এমন অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা যাচাই করা হয়।

(গ) অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন : এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ, মানচিত্র, ছবি, সূচি, লেখচিত্র, প্রবাহ চিত্র ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্দীপকটি উপস্থাপন এবং এর ওপর ভিত্তি করে দুটি প্রশ্ন করা হয়। প্রত্যেকটি প্রশ্নের চারটি করে বিকল্প উত্তর থাকে। সাধারণত প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়।

মনোযোগী হয়ে সিলেবাস অনুযায়ী অধ্যায়ের বিভিন্ন বিষয়বস্তু একমাত্র ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমেই ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ, উচ্চতর দক্ষতা এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়া সহজ হয়। প্রশ্নের মান অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর লেখা অত্যন্ত জরুরি।

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রতি সচেতন থাকতে হবে। একটি প্রশ্নের উত্তর বড় করতে গিয়ে অপর একটি প্রশ্নের উত্তর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। অপ্রাসঙ্গিক, অযৌক্তিক আলোচনা করে উত্তরের পরিধি বড় না করে বরং ক্ষেত্রবিশেষে প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী যৌক্তিক চিত্র, তথ্যভিত্তিক সূচি, ডায়াগ্রাম, চক্র, প্রবাহ চিত্র, লেখচিত্র, গাণিতিক ব্যাখ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তরটি একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে পরীক্ষকের কাছে আকর্ষণীয় করা উচিত। যা অধিক নম্বর প্রাপ্তিতে সহায়ক ভ‚মিকা রাখবে। প্রয়োজনে রঙিন (সবুজ, নীল ও বেগুনী) কলমও ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেখ আবু সাঈদ আবদুল্লাহ্
প্রভাষক, অর্থনীতি বিভাগ
কুমিল্লা অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কুমিল্লা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *