ব্রিটেন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে ব্রেক্সিটের পর: আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নতুন খবর |

কাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে চলেছে ব্রিটেন। তিন বছর ধরে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর কার্যকর হচ্ছে ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ব্রিটেন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

৩১ জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর হলেও ইইউ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে ব্রিটেনের আরও সময় লাগবে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে চান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তবে মাত্র এগারো মাসের মধ্যে বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে ইইউর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ঘোর সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। খবর ডয়চে ভেলের।

ইইউর প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে সম্প্রতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইইউ কোনো অবস্থায় একক বাজারের অখণ্ডতা নিয়ে আপোস করবে না। তার মতে, ব্রিটেন এতকাল ব্রেক্সিটের ব্যয়ভারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। এবার সেই বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসে গেছে। একক বাজার ও শুল্ক এলাকা ত্যাগ করলে তার পরিণাম ভোগ করতে হবে।

ব্রিটেনের কিছু রাজনীতিক সম্প্রতি ব্রাসেলসের কাছ থেকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানারকম ছাড়ের আশা প্রকাশ করেছেন। তবে বার্নিয়ে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন।

ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে ইইউ যতটা সম্ভব নমনীয় হওয়ার চেষ্টা করলেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আর আগের মতো অবাধ হতে পারবে না। বরিস জনসন চলতি বছরেই এই আলোচনা শেষ করার যে অঙ্গীকার করেছেন, সেই সময়সীমা মোটেই বাস্তবসম্মত নয় বলে ইইউ কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করেছেন৷ তা সত্ত্বেও জনসন সময়সীমা বাড়াতে প্রস্তুত না হলে কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেন ইইউ বাণিজ্য ও শুল্ক কাঠামো ছেড়ে বেরিয়ে যাবে।

আরেকটি বিষয় নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। ব্রিটেন ভবিষ্যতে ইইউর বিধিনিয়ম কতটা মেনে চলতে প্রস্তুত, সে বিষয়ে জনসনের সরকার এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। বিশেষ করে ইইউ দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় সাহায্য ও সামাজিক মডেল চালু রয়েছে, সেই কাঠামো ত্যাগ করলে ব্রিটেনের পণ্য প্রবেশের পথে আরও বাধা সৃষ্টি হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতেই উত্তর আয়ারল্যান্ড সীমান্তে কিছু নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হবে বলে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার মনে করেন। বরিস জনসন অবশ্য এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সম্প্রতি বার্নিয়ে সেখানে আয়ারল্যান্ডপন্থি শিন ফেন ও ব্রিটেনপন্থি ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে বার্নিয়ে বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডেই ব্রেক্সিটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাবে। তিনি ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

নতুন খবর/তুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *