বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা ক্যান্সার আক্রান্তের হার নিয়ে: আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-হু। এই হার অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে হুর ভাষ্য।

৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক হু এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, ক্যান্সার নিরাময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকার যদি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয় তাহলে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ৭০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

বিভিন্ন দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশে^র বিভিন্ন দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা…। বাংলাদেশেও এই রোগে আক্রান্তের হার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

হু’ হিসাব মতে, বিশে^ প্রতি ছয় জনের মধ্যে একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই রোগে ভুগে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০ লাখ মানুষ প্রতি বছর মারা যায়।

ক্যান্সারের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে হু বলছে, যদি বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে ২০২৪ সালের মধ্যে বিশে^ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলো। কারণ ক্যান্সার প্রতিরোধে অবকাঠামো দুর্বলতার কারণে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে ৮০ ভাগের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ইবায়ি বলেছেন, দরিদ্র দেশগুলোতে প্রচুরসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে প্রাণ হারাচ্ছে। কারণ দেশগুলোতে ক্যান্সার প্রতিরোধে যথাযথ প্রযুক্তি নেই। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে যথাযথ প্রযুক্তি থাকায় সেখানে মৃত্যুহার অনেক কম।

নিজস্ব এক গবেষণা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে ইবায়ি বলেন, ‘যদি ক্যান্সার নিরাময়ে প্রতিটি সরকার অর্থ বরাদ্দ করে, তাহলে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ৭০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। এক্ষেত্রে নিম্ন-মধ্যম দেশগুলোতে প্রতি ব্যক্তির পেছনে ২ দশমিক ৭০ ডলার এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতি জনের পেছনে ৮ দশমিক ১৫ ডলার লাগবে। ফলে বিশে^ ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব। ক্যান্সারের কারণে কারোর মৃত্যু হতে পারে না; এটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার পরিচালক এলিজাবেথ ওয়েদারপাস বলেন, ‘ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং তা নিরাময়ে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রচুর রোগী নবজীবন লাভ করছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২৫ শতাংশ ক্যান্সারের কারণ হচ্ছে ধূমপান। যদি এ বদঅভ্যাস ত্যাগ করা যায়, তাহলে লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অপচয় রোধ সম্ভব হবে। আর এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব।

এছাড়া হেপাটাইটিস-বি রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম এক ধরণের ভ্যাকসিন লিভার ক্যান্সার নিরাময় করতে পারে বলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নতুন খবর/তুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *