বিবস্ত্র করে নির্যাতন গৃহবধূকে: প্রধান আসামি বাদল গ্রেপ্তার: নিজস্ব প্রতিবেদক, নতুন খবর |

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও বিবস্ত্র করে ভিডিওধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলার প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এছাড়া মামলার আরেক আসামি দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের এলিট ফোর্সটি। তাদের নিয়ে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে র‌্যাব।

এর আগে ওই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা হলেন একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জয়কৃঞ্চপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার হারিদন ভূঁইয়া বাড়ির শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে মো. আব্দুর রহিম এবং একই এলাকার মোহর আলী মুন্সি বাড়ির মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহ।

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে ২০/২৫ দিন আগে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রবিবার দুপুরে গৃহবধূকে নির্যাতনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মূহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে তার মুখমন্ডলে লাথি দেয় এবং বেধড়ক মারধর করে বখাটেরা। ওই সময় সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওতে নিজের আব্রু রক্ষা করতে চেষ্টার পাশাপাশি ওই গৃহবধূ বখাটেদের বহুবার পায়ে ধরে এবং বাবা-বাবা বলে ডাকলেও, ভিডিওধারণ বন্ধ রাখেনি।

ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, গোপনে সাবেক স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। এরপরই একদল যুবক অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে।

নির্যাতনের ওই ঘটনার ৩৩ দিন পর নয়জনকে আসামি করে রবিবার রাত ১টার দিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ। এরপর পুলিশের পাঁচটি ইউনিট গতকাল সাত ঘণ্টার মতো অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিম এবং মো. রহমত উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আরও দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানালো পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব।

নতুন খবর//তুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *