প্রথম বিশ্বকাপ এলো বাংলাদেশের ঘরে,ক্রীড়া ডেস্ক, নতুন খবর|

একি স্বপ্ন! নাকি সত্তি। যেন ছুঁয়ে দেখার মতো। আর তাই হয়তো ট্রফিতে বারবার চুমু খেয়ে ট্রফি জয়ের বিশ্বাসটা নিতে চাইলেন অধিনায়ক আকবর আলী। অসাধারণ-অবিশ্বাস্য এক জয় পেলেন লাল সবুজের বাংলাদেশের যুবারা। হোক না সেটা অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা। কিন্তু ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই যে বাংলাদেশের প্রথম অর্জন। শাবাশ বাংলাদেশ, শাবাশ বাংলাদেশের যুবারা। তাদের এই অর্জনে প্রবাসী বাঙালিদেরও অর্জন কম নয়।

শুরু থেকে শেষ অব্দি ক্রিকেটারদের উৎসাহ জুগিয়েছিলেন তারা। ম্যাচ শেষে মাঠ চষে বেড়ালেন ক্রিকেটাররা। একাকার হয়ে গেলেন প্রবাসীরাও। তারা এই আনন্দে ভাগ বসালেন পচেফস্ট্রুমের সবুজ ঘাসে। কার্টেল ওভারে ভারতকে হারালো ৩ উইকেটে।

ভারতের গড়া ১৭৭ রানের জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টিবাধা পড়ে ম্যাচ। ম্যাচ রেফারি বাংলাদেশকে শেষ ৩০ বলে জয়ের লক্ষ্য দেয় ৭ রান। ৭ উইকেটে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যে, সংগ্রহ করে ১৭০ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ইমন ৪৭ এবং অধিনায়ক আকবর আলী অপরাজিত ৪২ রান করেন। মূলত এই জুটির কল্যাণেই বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত জয়ের লক্ষে পৌঁছে।

উদ্বোধনী জুটিতেই আশাজাগানিয়া ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়। কিন্তু মাঝপথে হঠাৎ বিষ্ণু ঝড়ে বাংলাদেশের সাজানো স্বপ্ন তছনছ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। একে একে উইকেট পতনে মুছে যেতে থাকে আকবর আলীদের সম্ভাবনার সব দ্বার। ভারতীয় এই স্পিনার প্রথম ৪ ওভারেই ১১ রানে দখল করেন ৪ উইকেট।

বিষাদে রূপ নিতে থাকে পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত শিরোপা লড়াইয়ে ফের স্বপ্ন। তা দেখান পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক আকবর আলী। তাদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ দারুণ লড়াইয়ে ফিরে আসে। ইমন ও আকবর আলীর জুটিতে দল পৌঁছায় ১৪৩ রানে। হাতে তখনো সাত ওভার ও ৩ উইকেট। দলনেতা সত্যিকারের ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু ম্যাচটি যখন জয়ের খুব কাছাকাছি ঠিক তখনই বৃষ্টির বাধা। ম্যাচটি পুনরায় মাঠে না গড়ালেও অসুবিধা নেই যুবাদের। তার আগে বিশ্ব ক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দেয় তারা।

শুরুটা দারুণই হয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের। দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন আর তানজীদ হাসান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই রান তাড়ার ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন। বাঁ-হাতি পারভেজের সঙ্গে ডান হাতি তানজীদ ভারতীয় বোলারদের সামনে খেলছিলেন উইকেটের চারদিকেই। কিন্তু রবি বিষ্ণুয়ের লেগ স্পিনে দৃশ্যত এলোমেলো হয় বাংলাদেশের রান তাড়া। ৫০ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বিষ্ণু তুলে নেন আরও ৩ উইকেট। টপ অর্ডারের ইনফর্ম ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে ১৭৮ রানকেও অনেক বড় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের যুবাদের।

বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানই খুব একটা দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি। তানজিদ হাসান তামিম ১৭, মাহামুদুল হাসান জয় ৮, তৌহিদ হৃদয় ০, শাহাদাত হোসেন ১ ও শামীম হোসেন ৭ রান করে সাজঘরে ফিরলে বেশ কঠিন অবস্থার মুখে পড়ে যায় বাংলাদেশ দল। অবশ্য শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলেন পারভেজ। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া এই ব্যাটসম্যানের বিদায় বড় ধাক্কা হয়ে আসে বাংলাদেশের জন্য। পারভেজ আবারও ক্রিজে ফিরতেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

এর আগে বাংলাদেশের আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। প্রথম ১০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ২৩ রান। যেখানে ছিল টানা ৪৯টি ডট বল। এরই মধ্যে প্রথম উইকেট তুলে নেন অভিষেক দাস। ৬.৪ ওভারে ফিরিয়ে দেন সাক্সেনাকে। ১৭ বল খেলে ২ রান এই ভারতীয় ওপেনার। যদিও শেষ দিকে জয়সালের কল্যাণে ভারত দেড় শতাধিক রানে পৌঁছায়। জয়সাল একাই করেন ৮৮ রান। এছাড়া তিলক ভারমা ৩৮ ও জুরেল সর্বোচ্চ ২২ রান করেন।

নতুন খবর/ আমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *