‘পদত্যাগ করে চলে যাবো সংসদ নেতা বললে ’ নিজস্ব প্রতিবেদক, আজকের নতুন খবর |

নিজের মামলার বিষয়ে পরিবার ও গণমাধ্যমে জবাব দেয়া নিয়ে নিজের বিরক্তির কথা জানিয়ে সংসদে ক্ষোভ ঝেড়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। ইতিমধ্যে রায় হওয়া একটি মামলার কারণে সংসদ সদস্য পদ চলে যেতে পারে এমন গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘সংসদ নেতা আপনি বলে দেন, কোর্ট থেকে বলা লাগবে না, আমি কালকেই সংসদ থেকে পদত্যাগ করে চলে যাবো। আমি রিজাইন দেব। পরিষ্কারভাবেই বলতে চাই।’

বুধবার দুপুরে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ এর ব্যক্তিগত কৈফিয়ত চেয়ে বক্তব্য দেন তিনি। এসময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভূমিদস্যুদের করা মামলায় নাজেহাল হওয়ার অভিযোগ করেন। হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমি যে এলাকার এমপি, আমি আইনশঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা, সেখানে আমি প্রতিকার পাবো না? আমাকে কেন হয়রানি করা হবে। একটি মামলা ১৮ মাস ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে? কেন? যে তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি ঝুলিয়ে রেখেছে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

গাড়ির শুল্ক নিয়ে দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা। আপিল বিভাগে আপিল করার পর সেটি স্থগিত ছিল, আবার কে যেন রিট পিটিশন করেছে। কেন আমাকে এভাবে বিব্রত করা হচ্ছে। মিডিয়ায় বলছে, এই মাসেই সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে। আমাকে কোর্ট থেকে কিছু করতে হবে না।’

এই সংসদ নেতা বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করে চলে যাব। আমাকে ফেবার করতে হবে না।’

স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আপনি আমাদের সংসদের অভিভাবক, আমরা এখানে ৩৫০ জন সংসদ সদস্য আছি। ৩৫০ জনের মধ্যে ৩৪২ জনই হচ্ছে মহাজোটের শরিক। আর আমরা সাতজন বিএনপির, দুজন গণফোরামের। আমরা আটজন মিলে বিরোধী দল। এখানে সংসদ নেতা আছেন।’

বিএনপি দলীয় এমপি বলেন, ‘আমি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল স্পিকারের কাছে একটি আবেদন দিয়েছিলাম। গত বছরের ৪ এপ্রিল আমার এলাকায় আমাকে আসামি করে আমার বড় বোন, আমার ভগ্নিপতিকে আসামি করে জালজালিয়াতির একটি মামলা করা হয়। গত বছর এপ্রিল মাসে করা মামলা দীর্ঘদিন যাবৎ ওইভাবেই পড়ে থাকে। আমি আমার জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা। আমার উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা আমি। পুলিশ সুপার, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতিকে বার বার অনুরোধ করেছি- আমার নামে যে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে কোর্টে এবং কোর্ট এটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট থানাকে দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছে। আজ ১৮ মাস হয়ে গেছে। গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাই। তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমি যে বিষয়ের সঙ্গে অপরাধী নই, কেন আমাকে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। আমার বোন প্রায় ষাটোর্ধ বয়সের, ভগ্নিপতির বয়স ৭০ বছর, এক মাস পরপর তাদের হাজিরা দিতে হচ্ছে। আমি বারবার তাগাদা দিচ্ছি, আমি কোনো ফেবার চাই না। যা তদন্ত করে পাও তুমি রিপোর্ট দাখিল কর। এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে নিয়ে আসছি। ওনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুঃখটা এই কারণে গতকাল যখন অধিবেশন শেষে করে গেলাম, বিকাল ৪টার দিকে তখন আমার জেলার একজন এসআই বলল স্যার আপনার মামলাটি থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তর করে দিচ্ছি। ১৮ মাস ধরে কেন মামলাটি ফেলে রাখল। এটি তো ১৮ মাস আগেই সিআইডিতে দিতে পারত। এটা তো সিআইডিতে দেয়ার মতো মামলা নয়। আমার সন্তানরা বলে তুমি সিটিং এমপি, তোমার নামে ভূমিদস্যুরা মামলা করে, তুমি প্রতিকার পাও না, তুমি কেন সংসদে যাও, চল বিদেশে চলে যাই।’

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমি ফেবার চাই না। অবিলম্বে তদন্ত রিপোর্ট চাই। আমি অভিযুক্ত হলে অভিযোগ দিয়ে তদন্ত রিপোর্ট দেন, আদালতে বিচার হোক। কিন্তু কেন ১৮ মাস ফেলে রাখলেন?’

তিনি সংসদ নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি এমপিদের সুযোগ বাতিল করে দেন। আমি কেন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে থাকব। কেন আমাকে মিডিয়াতে উত্তর দিতে হবে, এমপিশিপ আগামী মাসেই চলে যাবে। সংসদ নেতা আপনি বলে দেন, কোর্ট থেকে বলা লাগবে না, আমি কালকেই সংসদ থেকে পদত্যাগ করে চলে যাব। আমি রিজাইন দেব। পরিষ্কারভাবেই বলতে চাই।’

নতুন খবর/তুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *