নির্বাচন হচ্ছে না ফিলিস্তিনের: আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নতুন খবর |

 

 

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সেখানকার পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিল, ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বিভেদ, তা দূর করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হচ্ছে।

মিশনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ১৫ বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন বন্ধের পরিকল্পনা করছে। দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েল ভোট গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ফিলিস্তিনের একটি অংশ এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

মিশনের কূটনৈতিক এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের একটি দলের সভায় এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস চলতি বছরের মে-তে ফিলিস্তিনে পার্লামেন্ট ও জুলাইতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এই ঘোষণায় স্বাগত জানিয়েছিল।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ‘অনুষ্ঠিত হতে চাওয়া নির্বাচনে ইসরায়েল ভেটো দিয়েছিল। নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েলের ভেটো সফল হলো। তবে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও উপকৃত হবেন। কারণ, হামাসের প্রভাবের কাছে তার রাজনৈতিক দল ফাতাহ ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছিল। হামাস বর্তমানে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করে।’

মিশরের একজন কূটনৈতিক এবং একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিশরের রাজধানী কায়রোতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় তাদেরকে নির্বাচন না হওয়ার পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের উপদলের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এটা জানানো হবে।

তারা আরও বলেন, ভোট অনুষ্ঠানের জন্য মিশর ইসরায়েলের সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য আলোচনা করেছে। কিন্তু সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

মিশরের গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, হামাস চায় নির্বাচন হোক। তবে অন্য দলগুলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এমন প্রতিশ্রুতি না পেলে নির্বাচনে যেতে চান না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরিবর্তে উপদলগুলো ঐক্যের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে যাতে হামাসকে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

ফিলিস্তিনের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পূর্বের চুক্তি অনুসারে পূর্ব জেরুজালেমের ৬ হাজার ভোটারকে ইসরায়েলের পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ব্যালটপেপার জমা দিতে হবে। এছাড়া অন্য দেড় লাখ ভোটার ইসরায়েলের অনুমতি বা অনুমতি ছাড়া ভোট দিতে পারবেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যাদেরকে ইসরায়েলের অনুমতিক্রমে ভোট দিতে হবে নির্বাচনের ফলাফলে তাদের বড় কোনো প্রভাব নেই। তবে পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের এটা দাবি করতে প্রতীকীভাবে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরায়েল এখন পর্যন্ত জানায়নি তারা পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের ভোট দিতে দেবেন কি না।

আজকের নতুন খবর//তুম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *