জামায়াত স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করল: নিজস্ব প্রতিবেদক, নতুন খবর |

 

 

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে ভূমিকা রাখা জামায়াত ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়া বক্তব্যে জামায়াতের আমির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সোমবার অনলাইনে দেয়া বক্তব্যে জামায়াতের আমির বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষে পদার্পণের এই মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সব শহীদ ও সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের বীরত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রিয় জন্মভূমির স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বিশেষভাবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে।’

৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘একথা অনস্বীকার্য যে বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে। আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। একটি পতাকা। আমাদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ বাহিনী সারা বিশ্বে দেশের সুনাম ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেছে। সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির সাহসী ভূমিকা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের শক্তি ও সাহসকে আরও দঢ় করেছে। শান্তি মিশনে সশন্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ভূমিকা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিগত ৫০ বছরেও জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেনি। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ছাড়া দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন। দুর্ভাগ্যের বিষয় জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে দেশে অনৈক্য বিভেদ বিভাজন ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এদেশে যেসব সমস্যা বিরাজমান সেগুলোর সমাধান সকলে মিলে করতে হবে। এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে আমাদের শপথ হবে ‘বিভেদ নয় ঐক্যের’ মাধ্যমে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।’

জামায়াত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কাজ করছে এমন দাবি করে দলটির আমির বলেন, ‘আগামী দিনেও সবাইকে সাথে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী দেশ গড়ার রাজনীতি অব্যাহত রাখবে। তাই ক্ষমতাসীনসহ সকল রাজনৈতিক দল ও মহলের প্রতি আমাদের আহ্বান, আসুন স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের বৃহত্তর কল্যাণে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনীতির চর্চা করি। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ভুলে গিয়ে দেশের আলেম-উলামা, শিক্ষক-সাংবাদিক, গবেষক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র-যুবক, শ্রমিক-কৃষক ও সকল শ্রেণিপেশার মানুষসহ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হই। সুখী সমৃদ্ধশালী ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাই।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দলের শীর্ষ নেতাদের স্মরণ করেন শফিকুর রহমান। এছাড়া জামায়াত ও শিবিরের যেসব নেতাকর্মী মামলার শিকার হয়ে জেলে আছে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই মুহূর্তে জনগণের নিকট এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার অর্জনের নিশ্চয়তা।’ এসময় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেরও সমালোচনা করেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘স্বাধীনতার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মানুষের জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। আজ অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপরাধ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।’

অপসংস্কৃতির সয়লাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ আজ অবহেলিত। সংস্কৃতির নামে বিদেশি অপসংস্কৃতিকে জোরপূর্বক জাতির ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।’

জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এ দেশকে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াত মনে করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচন। তবে আমরা যেনতেন উপায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার পক্ষপাতি নই।’

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জামায়াতের কর্মসূচি

এসময় জামায়াতের আমির দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দলের সকল শাখার নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সংগঠনের সর্বস্তরে তৃর্ণমূল পর্যায়ে মিছিল/র‌্যালি, ৫০ বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি এবং দেশ গঠনে জামায়াতের ভূমিকা আলোচনা ও সেমিনারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা, স্মারক ও বুকলেট প্রকাশ করা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে উপহার প্রদান এবং অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ সংস্কার ও নির্মাণে সহযোগিতা প্রদান, অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা, সন্তানদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তা, রোগীর সেবা, করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, কন্যা দায়গ্রস্তদের বিয়ে ও আত্মকর্মসংস্থানে সহযোগিতা প্রদান করা, অসহায়, এতিম, পথশিশু ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচি পালন করা, বছরব্যাপী রচনা, কেরাত, আজান, হামদ-নাত ও দেশাত্মবোধক গান।

নতুন খবর//তুম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.