চীনে নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬২, আন্তর্জাতিক ডেস্ক , নতুন খবর

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে মাস্ক পরিয়ে শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের বাবা-মায়েরা। থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত ১৯ জন প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ- এএফপি

চীনে নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩৬২ জন। চীনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে নতুন করে আরও ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চীনের অভ্যন্তরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬২ জনে। এ ছাড়া রোববার চীনের বাইরে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসে ফিলিপাইনে একজনের মৃত্যু হয়। অবশ্য ফিলিপাইনে মারা যাওয়া ব্যক্তিও চীনের নাগরিক। তিনি ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকেই, যে শহরে উৎপত্তি করোনাভাইরাসের।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো উহানে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীনসহ প্রায় ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ হাজার ২০০ জনের আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য মিলেছে।

চীনের সর্বত্র ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের উহান শহরসহ বেশিরভাগ এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনও। সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের বিভিন্ন শহরেও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রোববার জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্পাহান জানান, জার্মানিসহ জি-৭ জোটের সবগুলো দেশেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ পাওয়া গেছে। এই জোটের অন্য সদস্য দেশগুলো হচ্ছে- কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন বলেও জানান জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে থাইল্যান্ডে ইতোমধ্যে ১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার দেশটির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এইচআইভির ওষুধ একসঙ্গে মিশিয়ে তা দিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চীনের বয়স্ক এক ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন এবং এতে তার অবস্থার নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশগুলো ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। এর অংশ হিসেবে চীন সফর করা বিদেশিদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইসরায়েল। এ ছাড়া দেশগুলো তাদের নিজেদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণ না করার জন্য সতর্কও করেছে। এর বাইরে মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া ও নেপাল তাদের স্থলসীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া পাপুয়া নিউগিনি সমুদ্র ও বিমানবন্দর দিয়ে এশিয়া থেকে কারও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *