কোন দেশে কতজন করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত? ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নতুন খবর

মহামারি এই করোনাভাইরাসের আতঙ্কে রয়েছে পুড়ো বিশ্ব। চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ‍মৃত্যুর সংখ্যা দিনের পর দির বেড়েই চলেছে। নতুন করে শনিবার চীনে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া চীনের হুবেই প্রবেশে দুই হাজার ৬০০ জনের শরীরে নতুন করে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ৬৬ হাজার মানুষ এ প্রাণঘাতি ভাইরাসে আক্রন্ত হয়েছেন।

চীনের বাইরে বিশ্বের প্রায় ২৮টি দেশে প্রাণঘাতি এ ভাইরাস ছড়িয়ে প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং মধ্য প্রাচ্যের দেশও রয়েছে।

এক নজরে জেনে নেই প্রাণঘাতি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোন দেশে কত জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

চীন-

চীনের ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন জানিয়েছে, দেশটিতে ৬৬ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১,৫২৩ জন মারা গেছেন।

অস্ট্রেলিয়া-

দেশটিতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের তথ্য মতে, এর মধ্যে তিনজন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরেছিলেন।

বেলজিয়াম-

গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশটির সরকার জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে একজন উহান থেকে দেশটি ৯জন ফিরেছিলেন, তাদের মধ্যে এক জনের শরীরে করোনাভাইসার পাওয়া গেছে।

কম্বোডিয়া-

গত ২ জানুয়ারি দেশটি প্রথম একজন করোনভাইরাসে আক্রান্তের কথা জানায়।

কানাডা-

দেশটির সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতজন আক্রান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।

ফিনল্যান্ড-

গত ২৯ জানুয়ারি একজন চীনা পর্যটক দেশটির হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। ৩২ বছর বয়সী এই নারী পর্যটক চীনের উহান থেকে এসেছেন।

ফ্রান্স-

এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ইউরোপিয়ান দেশ হলো ফ্রান্স। ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

জার্মানি-

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

ভারত-

তিন ফেব্রুয়ারি দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় যে ভারতে এ ভাইরাসে মোট তিনজন আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, তারা তিনজনই ছাত্র, যারা উহান থেকে ফিরেছিলেন।

ইতালি-

উহান থেকে সরিয়ে নেয়া ৫৬ জনের মধ্যে একজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত বলে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়। আর ৩০ জানুয়ারি দুজন চীনা পর্যটকের আক্রান্তের কথা জানানো হয়।

জাপান-

জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে পৃথক করে রাখা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ২১৮ জনের দেহে কেভিড-১৯ রোগ ধরা পড়েছে বলে ১৩ ফেব্রুয়ারি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার দেশটি করোনাভাইরাসে ৮০ বছর বয়সী এক নারীর প্রথম মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার যে ৪০ জনের আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করা হয়।

মালয়েশিয়া-

১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই চীনা নাগরিক। তবে দুজন মালয়েশিয়ান নাগরিকও রয়েছেন।

নেপাল-

দেশটিতে একজন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। গত ২৪ জানুয়ারি নেপাল বলেছিল, উহান থেকে আসা ৩২ বছরের এক ব্যক্তি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

ফিলিপাইন-

চীনের বাইরে এ ভাইরাসে প্রথম মৃত্য হয় ফিলিপাইনে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

রাশিয়া-

রাশিয়ায় দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। দুজনই চীনা নাগরিক। তারা সুস্থ হয়েছে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

সিঙ্গাপুর-

দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৭ জনে। ফলে চীনের পর সিঙ্গাপুরে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ হলো।

দক্ষিণ কোরিয়া-

গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে নতুর আরও একজনের আক্রান্তের খবর জানানো হয়। এ নিয়ে দেশটিতে ২৮ জন আক্রান্ত হলো।

স্পেন- ২

স্পেন কর্তৃপক্ষ ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ব্যক্তি আক্রান্তের তথ্য জানায়। এর আগে ৩১ জানুয়ারি দেশটিতে প্রথম কেউ আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়।

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় ১ জন, সুইডেনে ১ জন, তাইওয়ানে ১৮ জন, থাইল্যান্ডে ৩৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮ জন, যুক্তরাজ্যে ৯ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ জন, ভিয়েতনামে ১৬ জন এবং মিশরে ১ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে যে, দেশটি প্রথম কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তি একজন বিদেশি নাগরিক। ফলে আফ্রিকায় এ ভাইরাসে আক্রান্তের প্রথম খবর পাওয়া গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *