কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ, উত্তরে দেখা নেই সূর্যের: নিজস্ব প্রতিবেদক, নতুন খবর |

কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। রাতের শুরু হতে না হতেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে পথঘাট। দৃষ্টি কয়েক হাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। তীব্র শীতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। যেসব জেলায় চরাঞ্চলে নিম্নআয়ের মানুষ, ছিন্নমূল, দুঃস্থ অসহায় মানুষের বসবাস, তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। উত্তরের সব জেলাতেই এভাবে জেঁকে বসেছে শীত।

আমাদের রংপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় কয়েকদিন থেকে দিনে সূর্যের তেমন কোনো দেখা মিলছে না। দুপুরের দিকে কিছু সময়ের জন্য সূর্য তার উপস্থিতি জানান দিলেও অল্প সময় পরই আবার কুয়াশায় হারিয়ে যায়। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় এই জেলায় শীতের মাত্রা বেড়েছে অনেক। কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসে জনজীবন অনেকটা থমকে দাঁড়িয়েছে। এতে সবথেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষ।

একই অবস্থা গাইবান্ধাতেও। এই জেলায় গত কয়েক দিন ধরে শীত জেঁকে বসেছে। দুপুরের দিকে কিছু সময় ছাড়া গত শনিবার থেকে খুব একটা সূর্যের দেখা মেলেনি এই জেলায়। তীব্র শীতে জুবুথবু হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে গরিব মানুষের। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষেরা। তীব্র শীতে দিনমজুরেদের ফসলের মাঠে কাজে যেতে কষ্ট হচ্ছে। শহরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হননা তেমন। বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই।

আশরাফুল নামে জেলার এক বাসিন্দা বলেন, ‘না খায়া থাকা যায় বাহে, কিনতো জারের (শীতের) কষটোত ঘুম ধরে না। গরম কাপড় নাই। তাই শীতের জন্নে আচকে কামোত যাবার পাই নাই।’

নীলফামারী জেলায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত বয়ে চলেছে। সেই সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো কুয়াশা শুরু হয়েছে। ফলে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন। গত রবিবার ভোর থেকে এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সদর ও সৈয়দপুরে মানুষ শীতের তীব্রতায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন। তিস্তা ও নদী অববাহিকায় কুয়াশায় পাঁচ ফুট দূরত্বেও দেখা যাচ্ছে না কোনো কিছু। আঞ্চলিক ও মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে।

একই অবস্থা উত্তরের অন্যান্য জেলাগুলোতেও। এসব জেলায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা রীতিমতো অন্ধকারে পরিণত হচ্ছে। কয়েক হাত দূরের বস্তুও ঝাপসা। ভোর বেলা লাল আভা নিয়ে ভেসে উঠা সূর্য যেন মুখ মেলে তাকাতে পারছে না। সকালে ছিল হালকা ঠান্ডা বাতাস। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই তাপমাত্রা ক্রমেই নিচে নামতে শুরু করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হচ্ছে তীব্র শীতের আমেজ।

খুব সকালে খেটে খাওয়া মানুষেরা জীবিকার তাগিদে কুয়াশা ও শীতকে উপেক্ষা করেই ঘর থেকে বের হচ্ছে। তবে শীত বাড়লেও বেড়েছে পিঠার কদর। সকাল সন্ধ্যা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাপা-চিতইসহ হরেক রকম পিঠার পসরা নিয়ে বসছেন নারী ও পুরুষেরা। উনুনের তাপ নেয়ার পাশাপাশি পিঠাও খাচ্ছেন তারা।

বগুড়া শহরের সাতমাথায় ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রি শুরু করেছেন অনেক মৌসুমি বিক্রেতারা। অন্যদিকে শহরের রাজাবাজারের সবজির দোকানগুলোতে উঠতে শুরু করেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, মুলা, পালংশাক, শর্ষেশাকসহ নানা রকম শীতের সবজি।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেছেন, মাসের শেষের দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের ওই এলাকাগুলোর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছয় থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। আকাশ দখল করে নিতে পারে মেঘ আর দৃষ্টিসীমায় কুয়াশা।

নতুন খবর//তুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *