করোনাভাইরাসে বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা, মৃত ১৮৬৮ , আন্তর্জাতিক ডেস্ক , নতুন খবর

করোনাভাইরাসে বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে আজ আরও ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮০৭ জন। সবমিলিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮৬৮ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৩৫৫ জন। মঙ্গলবার চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হুবেই প্রদেশে করোনভাইরাসে আরও ৯৩ জন লোক মারা গেছে। করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৮ জনে।

চীনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজার ৮৬৩ জন। হংকং, তাইওয়ান, জাপান, ফিলিপাইন এবং ফ্রান্সে প্রতি একজনের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজার ৮৬৮ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, হুবেই ৪১ হাজার ৯৯৫ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ১৮৩ জন গুরুতর অসুস্থ। ৮৬৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের অন্তত ২৮টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া যায়নি। তবে সিঙ্গাপুরে পাঁচ বাংলাদেশি করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে চ্যানেল নিউজ এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিঙ্গাপুরে নতুন করে আরও পাঁচজনকে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন দেশটির গ্রেস অ্যাসেম্বলি অব গড চার্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একজন সেলেটার অ্যারোস্পেস হেইটস নির্মাণাধীন স্থাপনায় কর্মরত ছিলেন।

চীন এবং করোনাভাইরাস আক্রান্ত অন্যান্য দেশ থেকে দিল্লিতে আসা কয়েক হাজার মানুষের শরীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৭ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। গত মাসের মাঝের দিক দিল্লি বিমানবন্দরে কয়েক হাজার মানুষের শরীর পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ওই ১৭ জনের শরীরে করোনার লক্ষণ পাওয়া যায়। পরে তাদের দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাপানে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জাপানে এই প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ৮০ বছরের ওই বৃদ্ধা জাপানের কানাগাওয়া জেলার বাসিন্দা।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে পৌঁছার পর থেকেই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ব্রিটিশ প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস। এখন পর্যন্ত এর ২১৯ যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বের বাকি দেশগুলোর জন্য ভয়াবহ হুমকি হতে পারে। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগের নাম দেওয়া হয়েছে কোভিড-১৯ (COVID-19)।

নতুন এই ভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগ এখন থেকে কোভিড-১৯ নামেই পরিচিত হবে। ভাইরাসটির নামের CO দিয়ে করোনা, VI দিয়ে ভাইরাস, D দিয়ে ডিজিজ (রোগ) এবং 19 দিয়ে ২০১৯ সালকে নির্দেশ করা হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো নতুন এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।সার্সের মতো মহামারি আকার ধারণ করতে পারে এই নতুন ভাইরাস। তবে তখন তার সে কথায় পাত্তা দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাল্টা তাকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে হুমকি দেয়া হয়।

এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। চীনের বাইরে হংকং, তাইওয়ান, জাপান, ফিলিপাইন ও ফ্রান্সে একজন করে মোট পাঁচজন মারা গেছেন।

এছাড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭১ হাজার ৪৪০ জন। এর মধ্যে শুধু চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ৫৪৮। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৬১০ রোগী। বাণিজ্য, ব্যবসা আর পণ্য পরিবহনে গতি কমায় চীনসহ বিশ্ব অর্থনীতিও এখন করোনা আক্রান্ত হয়ে ধুঁকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *