করোনাভাইরাসের প্রভাবে দাম বাড়লো রসুনের , ডেস্ক রিপোর্ট, নতুন খবর

এবার দামের প্রভাব দেখা দিয়েছে আমদানিনির্ভর পণ্য রসুনের উপর। যদিও খানিকটা হলেও কমেছে পেঁয়াজের দাম। করোনাভাইরাস আক্রান্ত চীন থেকে নতুন করে পণ্য আমদানি করতে পারছেন না এ দেশের ব্যবসায়ীরা। ‘এ কারণে’ হঠাৎ করে গত তিন দিনে দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের রসুন ও চীনা আদার। নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাপণ্য রসুনের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা। এতে দেশি পুরোনো ও আমদানি করা রসুনের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। চীনা আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে আমদানি নির্ভর রসুন ও আদা আসা কমেছে। তা ছাড়া দেশি রসুনের মৌসুম শেষ হয়েছে। নতুন আগাম দেশি রসুন এবং আমদানি করা রসুনের সরবরাহও কম। এসব কারণে এ পণ্য দুটির দাম বাড়ছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পুরোনো রসুন বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

আগাম দেশি নতুন রসুনের দাম খুচরা বাজারে ১২০ টাকা; দোকানিরা তা বিক্রি করছেন ১৪০ টাকা কেজি দরে। আমদানি করা রসুন ক্রেতারা কিনছেন ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। গত বৃহস্পতিবারও প্রতি কেজি দেশি পুরোনো রসুন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। আমদানি করা রসুন ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।

এদিকে গত তিন দিনে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৩০ টাকা। বাজারে হালিকাটা বা বীজের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এতে দাম কমে আসছে। গতকাল প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। আমদানি করা চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজার কৃষিপণ্য বণিক সমিতির সহসভাপতি ও আমদানিকারক মো. মাজেদ সমকালকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীনে নতুন করে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা সম্ভব হয়নি। এখন কেবল আগের আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা রসুন ও আদা আসছে। তাই পণ্য দুটির দাম বাড়ছে। তবে দেশি আদা পাইকারি বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশি নতুন রসুনের দামও কম রয়েছে।

মিরপুর ১ নম্বর বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, দেশি রসুনের সরবরাহ কম হওয়ার সুযোগে আমদানিকারকরা চীনা রসুনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত তিন দিনে পাইকারি বাজারে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মতিন মণ্ডল বলেন, সব পণ্যের দামই এখন ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। বাজারে প্রচুর দেশি নতুন রসুন আসবে মনে করে আমদানিকারকরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। নতুন রসুন ওঠা শুরু হলেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ আসেনি। ফলে বাজারে দাম বাড়ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা টিসিবির বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা। আর এক মাসের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা। দেশি রসুন প্রতি কেজি ১৫০-২২০ টাকা আর আমদানি করা রসুন ১৬০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে দেশি রসুন ছিল কেজিপ্রতি ১৪০-২০০ টাকা, আমদানি করা রসুন ছিল ১৩০-১৫০ টাকা। গত বছরের এ সময় দেশি রসুন কেজিপ্রতি ৫০-৭০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে রসুন।

টিসিবির তথ্যে জানা যায়, আদার দামও কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১৩০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুকনা মরিচ কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-৪০০ টাকা হয়েছে। গতকাল এক দিনেই দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনা মরিচ, ডাল ও চিনির। পাম তেলের দাম কমলেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে দুই টাকা বেড়েছে। এখন পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৫৮০ থেকে ৫২০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন লিটারে সর্বোচ্চ তিন টাকা কমে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাম তেল লিটারে সর্বোচ্চ তিন টাকা কমে ৮০-৮২ টাকা ও সুপার পাম লিটারে সর্বোচ্চ চার টাকা কমে ৮৪-৮৬ টাকা হয়েছে। বড় দানার মসুর ডাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ছিল। দাম বেড়ে তা হয়েছে ৭০-৮০ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *