অদিতি কেন বারবার প্রত্যাখ্যাত ? বিনোদন ডেস্ক, নতুন খবর |

সুঅভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরি রাজপরিবারের সদস্য। আবার তিনি আমির খানের স্ত্রী কিরণ রাওয়ের আত্মীয়। অভিনয় জগতে বেশ লম্বা সময় পার করছেন। কিন্তু সেভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। কিন্তু কেন? বলিউডের কূটনীতি এখনও অদিতি রাও হায়দরির কাছে দুর্বোধ্য।

অদিতির প্রপিতামহ আকবর হায়দরি ছিলেন নিজাম এস্টেটের প্রধানমন্ত্রী। মায়ের দিক দিয়েও তিনি রাজপরিবারের উত্তরসূরি। তার মা বিদ্যা রাও ধ্রুপদী সংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী।

অদিতির জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৮ অক্টোবর, হায়দরাবাদে। অদিতির বয়স যখন মাত্র দু’বছর, ডিভোর্স হয়ে যায় তার বাবা-মায়ের। তিনি মায়ের সঙ্গে চলে আসেন দিল্লিতে। তবে পরবর্তীকালে নামের সঙ্গে বাবা ও মা, দু’জনের পদবি ব্যবহার করেন তিনি।

আশৈশব অদিতির দিন কেটেছে মিশ্র সংস্কৃতিতে। তার বাবা ছিলেন বোহরি মুসলিম সম্প্রদায়ের। মা জন্মসূত্রে হিন্দু, কিন্তু বৌদ্ধধর্মের ভক্ত। ফলে বিভিন্ন সং‌স্কৃতির রীতিনীতিতে তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। বাবার সঙ্গেও অদিতির সম্পর্ক বজায় ছিল। হায়দরাবাদ থেকে তিনি দিল্লি যেতেন প্রায়ই।

অদিতির বাবা পরবর্তী সময়ে আবার বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি তার মা একাই বড় করেন অদিতিকে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে অদিতি ভরতনাট্যমের প্রশিক্ষণ শুরু করেন প্রখ্যাত শিল্পী লীলা স্যামসনের কাছে।

দিল্লির স্কুলের পর অদিতি পড়াশোনা করেন লেডি শ্রীরাম কলেজে। বাবার ইচ্ছায় কিছু বছর তিনি কাটিয়েছিলেন আবাসিক স্কুলেও। অভিনয়ের প্রথম সুযোগ এসেছিল মাত্র ৮ বছর বয়সে। শেষ অবধি সেই ছবিতে অভিনয় করা আর হয়ে ওঠেনি। কিন্তু স্কুলের সহপাঠীদের কাছে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন অদিতি।

মঞ্চে ভরতনাট্যমের অনুষ্ঠান করার সময় অদিতিকে পছন্দ হয় পরিচালক সারদা রামনাথনের। তিনি তামিল ছবি ‘শৃঙ্গারম’-এ সুযোগ দেন অদিতিকে। তিনটি জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয় ছবিটি।

‘শৃঙ্গারম’ ছবিতে অদিতিকে দেখে ভালো লেগেছিল রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার স্ত্রী ভারতীর। তিনি রাকেশের বহু ছবির সম্পাদনাও করেছিলেন। ‘দিল্লি সিক্স’ ছবিতে নায়িকা ‘বিট্টু’র ভূমিকায় প্রথমে অভিনয় করার কথা ছিল অদিতির। কিন্তু শেষ অবধি সুযোগ পান সোনম কাপুর।

পরিবর্তে অদিতি অভিনয় করেন পার্শ্বচরিত্রে। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি ফুটিয়ে তোলেন মধ্যবয়সি মহিলার চরিত্র। ঋষি কাপুর, ওম পুরী, অতুল কুলকার্নি, দিব্যা দত্ত, ওয়াহিদা রহমানের মতো বলিষ্ঠ কুশীলবদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেন অদিতি।

বলিউডে প্রথম ছবি থেকেই নজর কাড়েন অদিতি। তবে ‘দিল্লি সিক্স’ ঘিরে তার স্মৃতি সুখের নয়। একে তো নায়িকার চরিত্র থেকে তিনি বঞ্চিত হন। পাশাপাশি, তার ওপর চিত্রায়িত বেশ কিছু দৃশ্য শেষ অবধি বাদ পড়ে ছবি থেকে।

অভিনয় সাবলীল হলেও প্রথম ছবির পর দীর্ঘদিন অদিতির কাছে কোনো কাজ ছিল না। তার অভিযোগ, প্রযোজকের সঙ্গে আপস করে ‘বিশেষ চাহিদা’ মেটাতে চাননি তিনি। ফলে প্রায় আট মাস তার হাতে কোনো কাজ ছিল না।

আবার তিনি প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হন ২০১১ সালে। ইমতিয়াজ আলির পরিচালনায় ‘রকস্টার’ ছবিতে কাশ্মীরি তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করার কথা ছিল তার। কিন্তু সে সুযোগও শেষ অবধি চলে গিয়েছিল নার্গিস ফকরির কাছে। এ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও দেখা দিয়েছিল সে সময়।

এই ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন পার্শ্বচরিত্রে। তার অভিনীত বেশ কিছু দৃশ্য বাদও পড়ে ছবি থেকে। বারবার একই ঘটনা ঘটতে থাকায় তিনি ঠিক করেন এবার সেই ছবিতেই কাজ করবেন, যেখানে তিনি মূল অভিনেত্রী।

২০১১ সালেই সুধীর মিশ্রর পরিচালনায় তিনি অভিনয় করেন ‘ইয়ে সালী জিন্দগী’-তে। এই ছবিতে মোট বাইশটি চুম্বনদৃশ্যে অভিনয় করেন তিনি। ভেঙে দেন মল্লিকা শেরাওয়াতের রেকর্ডও। কিন্তু এই ছবিও তার ক্যারিয়ারে বাড়তি গতি যোগ করতে পারেনি।

ইন্ডাস্ট্রিতে অদিতির পরিচয় হয়ে দাঁড়ায় ‘সাহসী’ অভিনেত্রী হিসেবে। কিন্তু পরিপূর্ণ নায়িকা কোনো দিনই হয়ে উঠতে পারেননি। ‘মার্ডার থ্রি’ ছবিতে রণদীপ হুডার সঙ্গে বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবির পর থেকেই তার এবং রণদীপের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে ইন্ডাস্ট্রিতে। অদিতির জন্যই নাকি পুরোনো বান্ধবী নীতু চন্দ্রার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় রণদীপের।

ঠিক এই সময়েই বিস্ফোরণ ঘটান অদিতি। জানান, তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে। ভক্তরা জানতেনই না, অদিতি আদৌ বিবাহিত! এরপর অদিতি নিজেই জানান, তিনি ১৭ বছর বয়স থেকে ডেটিং করছিলেন। সরকারি কর্মী-আইনজীবী-অভিনেতা সত্যদীপ মিশ্রকে বিয়ে করেছেন ২১ বছর বয়সে।

২০১৩ সালে অদিতি জানান, তাদের সেপারেশন হয়ে গেছে। বিচ্ছেদের কারণ জানা না গেলেও শোনা যায়, সহঅভিনেতাদের সঙ্গে অদিতির ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেননি তার স্বামী। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজের বিবাহিত পরিচয় সযত্নে লুকিয়ে রেখেছিলেন অদিতি। তিনি চাননি, তার বলিউডের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

অভিনেত্রী জীবনের বেশ কয়েক বছর কেটে যাওয়ার পরও অদিতির যাত্রাপথ ছিল বন্ধুর। ২০১৩ সালে মুক্তি পায় অক্ষয়কুমারের বিপরীতে ‘বস’। কিন্তু এই ছবিতেও অদিতির থেকে বেশি গুরুত্ব পায় সোনাক্ষীর আইটেম ডান্স।

২০১৬ সালে ‘ওয়াজির’ ছবিতে ফরহান আখতার, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেন অদিতি। কিন্তু বিধুবিনোদ চোপড়া প্রযোজিত এই ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।

এই সময় রণদীপের সঙ্গে অদিতির পুরোনো প্রেম ভেঙে গিয়েছিল। এবার তার সঙ্গে ফরহান আখতারের প্রেম ঘিরে নতুন গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে। অদিতি এবার মরিয়া হয়ে ওঠেন নিজের ভাবমূর্তি শোধরাতে। জানান, তিনি ফিরে যাচ্ছেন নিজের স্বামীর কাছে।

বলিউডে অমসৃণ ক্যারিয়ারের মাঝেই অদিতি ফিরে যান দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে। অভিনয় করেন মণিরত্নমের পরিচালনায় ‘চিক্কা চিবন্ত বমন’ ছবিতে। এই ছবিতে তার কাজ প্রশংসিত হয়।

সঞ্জয় দত্তের কামব্যাক ছবি ‘ভূমি’তে অভিনয় করেন অদিতি। তবে তার সাম্প্রতিক সব কাজকে ছাপিয়ে গেছে সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘পদ্মাবত’-এ মেহেরুন্নিসার ভূমিকায় অভিনয়।

সুঅভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও বলিউডে বেশি সুযোগ পাননি অদিতি। তার ভক্তদের মত, শুধু অভিনয় প্রতিভাকে মূলধন করে তিনি বেশিদূর এগোতে পারেননি। স্টারকিডদের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে তাকে। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো গডফাদার না থাকা বা বিতর্কে জড়িয়ে না পড়াটাও তার পিছিয়ে থাকার কারণ বলে মনে করেন অনেকে।

নতুন খবর//তুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *