আবারো জাতীয় দলে আব্দুর রাজ্জাক Reviewed by Momizat on . ক্রীড়া প্রতিবেদক: “আকরাম ভাইয়ের (বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান) সঙ্গে কথা হয়েছিল কিন্তু তা স্পষ্ট কিছু ছিল না। সজীব ভাই (বিসিবির লজিস্টিক ম্যানেজার কা ক্রীড়া প্রতিবেদক: “আকরাম ভাইয়ের (বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান) সঙ্গে কথা হয়েছিল কিন্তু তা স্পষ্ট কিছু ছিল না। সজীব ভাই (বিসিবির লজিস্টিক ম্যানেজার কা Rating: 0
You Are Here: Home » খেলাধুলা » আবারো জাতীয় দলে আব্দুর রাজ্জাক

আবারো জাতীয় দলে আব্দুর রাজ্জাক

ক্রীড়া প্রতিবেদক: “আকরাম ভাইয়ের (বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান) সঙ্গে কথা হয়েছিল কিন্তু তা স্পষ্ট কিছু ছিল না। সজীব ভাই (বিসিবির লজিস্টিক ম্যানেজার কাওসার আজম) মূলত আমাকে ফোন করেছিলেন টিকিট কনফার্ম করে। তখনও আমি খবরটা জানতাম না। উনি আমাকে বললেন, ‘’ অভিনন্দন। আমি বলালাম, কিসের জন্য? ৫০০ উইকেটের জন্য নাকি? উনি বললেন, ‘আরে না আপনি জাতীয় দলে যোগ দিচ্ছেন এজন্য।’ এরপর নান্নু ভাইয়ের (প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন) ফোন পেয়ে নিশ্চিত হলাম” এমনই কথা হচ্ছিল জাতীয় দল থেকে পিছিয়ে পড়া এই বাঁহাতি স্পিনারের সাথে। তিনি আর কেউ নন আমাদের আব্দুর রাজ্জাক।
চার বছর পর অপ্রত্যাশিতভাবে টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তনের খবর নয়, আব্দুর রাজ্জাক সবার আগে পেয়েছেন ঢাকা থেকে চট্টগামের ফ্লাইটের টিকিটের কনফার্মেশন! নিশ্চিত হবার পর অন্যরকম এক ভাললাগায় যেন ডুবে যান, তেমনি আবার আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন অদ্ভুত এক ঘোরেও, ‘নিশ্চিতভাবেই ভালোলাগার ব্যাপার তো আছেই। আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমি চিন্তাও করিনি যে এই সময়ে এমন কিছু, মাথার মধ্যেও ছিল না। হঠাৎ করেই জানতে পারলাম যে দলে নেওয়া হয়েছে। শোনার পরেও বুঝতে পারছিলাম না যে ঠিক কি হচ্ছে? সব কিছু ঠিক আছে কিনা!’ জাতীয় দলে কবে ফিরবেন, তার কোন ঠিক-ঠিকানা না থাকলেও রাজ্জাকের ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স ঠিকঠাকই ছিল। এই তো কিছুদিন আগেই প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটোরদের কাছ থেকে পেয়েছেন সম্মাননাও। তখন তো আর ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে সুযোগটি এসে যাবে এত দ্রুতই, ‘আমি খেলার মধ্যে ছিলাম। কোন লক্ষ্য না থাকলে আসলে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলা যায়ও না। প্রতিটি খেলোয়ড়েরই লক্ষ্য থাকে জাতীয় দলে খেলার। সেটি তো ছিলই। কিন্তু এটা এই সময়ে, এভাবে হবে, আমি বুঝতে পারিনি।’
অপেক্ষায় থেকে থেকে সুযোগ না পাওয়া আব্দুর রাজ্জাক সম্ভবত আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। ২০১৪-র ফেব্রুয়ারিতে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই নিজের সর্বশেষ টেস্ট খেলা বাঁহাতি স্পিনারের কথায় মনে হতে পারে সেটিও, ‘আমি আসলে বুঝতেই পারিনি যে ওই সময়টায় ঠিক কি হচ্ছিল! অনেক সময় একটা জিনিসের আশা থাকে, সেটা হয়েও যায়। এটা ওরকম কিছু ছিল না। ’ এই সুযোগ পাওয়ার মধ্যেও ভাগ্যের আনুকূল্য দেখছেন ২০১৪-র আগস্টের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নিজের সর্বশেষ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলা আব্দুর রাজ্জাক। তাই আরো আগেই সুযোগ পেতে পারতেন কি না, সে প্রশ্নে ঢুকলেনই না, ‘আগে-পরে নিয়ে এখন আর বলব না। ভাগ্য যখন আপনাকে ডেকে নিয়ে আসবে, ঠিক তখনই ডাক পাবেন। এটা আগে-পরে বলে কথা না।’
তাঁর সুযোগ পাওয়াটা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে গেল বলেও মনে করেন আব্দুর রাজ্জাক, ‘এটা এখন সবার জন্যই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা উচিত যে কখনোই শেষ না ভাবা। অনেক সময় তরুণ ক্রিকেটারদেরও এভাবে ভাবতে দেখি যে আর বোধ হয় হবে না। আমার মনে হয়ে কারোরই এ রকম ভাবা উচিত নয়। ভাল খেলতে থাকলে একসময় না একসময় দলের আপনাকে প্রয়োজন হবেই। আপনার জায়গাটায় সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে। সেই অপেক্ষা কত দিনের তা নিয়ে না ভেবে ভাল খেলে যেতে হবে। ৯৫ শতাংশ মানুষই হয়তো ভেবেছিল আমাকে দিয়ে আর হবে না। কিন্তু আমার ভেতরে এই জিনিসটা কাজ করত যে আমি আবারও খেলব।’
ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে খুব কার্যকরী হলেও ১২ টেস্টের ক্যারিয়ার খুব উজ্জ্বল নয় তার। এজন্যই এবারের সুযোগ তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারকে দিল আরেকটি ‘প্রাণ’। তবে এই সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বড় পরিকল্পনায় বিশ্বাসী নন তিনি, ‘সব সময় আমার পরিকল্পনা সাদাসিধেই থাকে। যখন যে ভূমিকায় খেলি, চেষ্টা করি তা ভালভাবে করার। শুরুর সময়ে ভাল করা গেরে পরের সময়টাও ভাল কাটে। খারাপ কিছু হওযার সম্ভাবনা কম থাকে। বড় পরিকল্পনা নিয়ে আসলে কখনোই কিছু করা হয়নি। এখনও তা করবো না।’ ইনজুরিতে পড়া সাকিব আল হাসানের জয়গায় সানজামুল ইসলামত ও তানভীর হায়দারের পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট দলে আসা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ঘাটতি পূরণ হবে বলেও মনে করেন না। তবে অন্য দুজনের পরও রাজ্জাককে আনার কারণ অবশ্যই অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ। অথচ সেই খবরটিই বিশ্বাস হতেই চাইছিল না আব্দুর রাজ্জাকের!

Leave a Comment