সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ঘোষনা করল সরকার Reviewed by Momizat on . সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে নানা মত দীর্ঘদিনের। এবার প্রথমবারের মত সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ঘোষনা করল সরকার। মন্ত্রীপরিষদ ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে নানা মত দীর্ঘদিনের। এবার প্রথমবারের মত সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ঘোষনা করল সরকার। মন্ত্রীপরিষদ ব Rating: 0
You Are Here: Home » বিজ্ঞান-প্রযুক্তি » সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ঘোষনা করল সরকার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ঘোষনা করল সরকার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে নানা মত দীর্ঘদিনের। এবার প্রথমবারের মত সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ঘোষনা করল সরকার। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৭” জারি করা হয়।
৬ পৃষ্ঠার নির্দেশিকায় ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম সহ ১০টি যোগাযাগ মাধ্যম ব্যবহারের বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। এ আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বছর শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবহারকারীকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার বা স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য এসব গাইডলাইন শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় নিরপেক্ষতায় আঘাত হানতে পারে এমন কোন কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন কনেটন্ট প্রকাশ করা যাবে না।
এছাড়া বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদৃ নৃ-গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয় প্রতিপন্নমূলক এবং কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয় প্রতিপন্ন করে ও লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কিত কোনো কনটেন্ট প্রকাশ করা যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
দাপ্তরিক যোগাযোগত ও মত বিনিময়, সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধান, জনসচেতনতা ও প্রচারণা, নাগরিকসেবা সহজ করা ও উদ্ভাবন, সিদ্ধান্তগ্রহণ ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, জনবান্ধব প্রশাসন ব্যবহার নিশ্চিন্ত করা এবং সেবাগ্রহীতার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সরকারি অফিসগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আ্যাকাউন্ট পরিচালনার নির্দেশনায় বলা হয়, আ্যাকাউন্টে কোন ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিষ্ঠানের কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি বা তিন থেকে পাঁচজনের একটি মডারেটর দল থাকবে।
সরকারের কর্মচারীদের ব্যক্তিগত আ্যাকউন্টকে এই নির্দেশনার বাইরে রাখা হলেও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় দায়িত্বশীল আচরণ ও অনুশাসন মেনে চলার নির্দেশ এসেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তিনমাসে একবার নিজ দপ্তরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অগ্রগতি ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে হবে। বছর শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবহারকারীকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার বা স্বীকৃতির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। সেরা পোস্ট, সেরা কমেন্ট, সেরা পেইজ, সেরা নাগরিক সমস্যা উপস্থাপক, সেরা প্রচারকের বিবেচনায় নিয়ে পুরস্কার দেওয়া যোতে পারে বলে নির্দেশনাবয় বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরো বলা হয়েছে, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এর মধ্যে ২৯ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত আছেন। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। আর আট শতাধিক সরকারি অফিসে দাপ্তরিক কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজের ফেইজবুক পাতায় “একান্ত ব্যক্তিগত” কোন বিষয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

Leave a Comment