ঢাকাআজ মঙ্গলবার ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ২৪শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরীসকাল ১০:২৫

171 বার পড়া হয়েছে «

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদার বিনিময় চলে ইজিবাইক ও অটোরিকশা ।।

মোল্লা তানিয়া ইসলাম (তমা ): রাজধানীতে ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরখানে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেদারছে চলছে এই অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা । জানাযায়,মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে এ অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচলে বৈধতা দিচ্ছে বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ । বর্তমানে এসব যানবাহনের মালিক ও চালকরা এদের কাছে জিম্মি । অভিযোগ রয়েছে স্হানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর কাছেও তারা জিম্মি হয়ে পড়েছে । দক্ষিণখান ও উত্তরখানের ৯টি সড়কে চলাচল করে এসব যানবাহন । সড়ক গুলি হচ্ছে,বিমানবন্দর রেলক্রসিং হইতে দক্ষিণখান,তাল তলা,ডুমনি, বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশ বক্স হইতে সিভিল এভিয়েশন স্টাফ কোয়ার্টার,কাওলা বাজার, বিমানবন্দর আনসার ক্যাম্প হইতে প্রেম বাগান,গাওয়াইর বাজার,কেসি হাসপাতাল,দক্ষিণখান বাজার । হাজী ক্যাম্প হইতে তালতলা,নদ্দাপাড়া,দক্ষিণখান । হাজী ক্যাম্প হইতে হলান,বরুয়া,লেকসিটি,খিলক্ষেত, কসাইবাড়ি রেলক্রসিং হইতে দক্ষিণখান,দোবাদিয়া,কাঁচকুড়া বাজার । দক্ষিণখান বাজার হইতে উত্তরখান মাজার চৌরাস্তা, দক্ষিণখান হইতে হলান,বরুয়া,লেকসিটি,খিলক্ষেত। উত্তরখান হইতে মাজার চৌরাস্তা,জয়নাল মার্কেট,আজমপুর রেলক্রসিং। উত্তরখান হইতে মাজার চৌরাস্তা,আব্দুল্লাহপুর । এই সব সড়কে প্রায় ৩ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করে । এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে,প্রতি ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন ৮০ হইতে ১০০ টাকা এবং প্রতি অটোরিকশা থেকে ৫০ হইতে ৭০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয় । এ ক্ষেত্রে স্হানীয় একটি চক্র পুলিশের লাইনম্যান হয়ে কাজ করে । মালিক ও চালকদের দাবী রাস্তায় চলাচলে বাধা না দেওয়ার বিনিময়ে বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশকে প্রতি ইজিবাইকের জন্য মাসে ৩ হাজার ও প্রতি অটোরিকশার জন্য মাসে ১৫ শত টাকা করে ফি দিতে হয় । এ বিষয়ে দক্ষিণখান জাতীয় শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদ্ক শামীম আহম্মেদ শাহীন জানান,ইজিবাইক ও অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন যে পরিমান চাঁদা উত্তোলন হয় তা শ্রেণীমত সবাই পায় । জানা যায়,কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মধ্যে চাঁদার ভাগ বাটোয়ারা নিয়েও বিবাদ সৃষ্টি হয় । বর্তমানে ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইন পরিচালনা করেন,বিমানবন্দর থানা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আবুল খায়ের । এ বিষয়ে আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবেদক কে জানান,গত ৬ আগষ্ট থেকে ইজিবাইক ও অটোরিক্সা পরিচালনার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। এ লাইনের সঙ্গে এলাকার শ্রমিকলীগের নেতা আবুল কাসেমও জড়িত আছেন । এর আগে এলাকার অন্য একটি গ্রুপ এ লাইন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলো । ইজিবাইক ও অটোরিক্সার মালিক এবং চালক অভিযোগ করে প্রতিবেদক কে জানান,বিমানবন্দর ট্রাফিক,দক্ষিণখান থানা ও উত্তরখান থানা পুলিশকে চাঁদা না দিলে রাস্তায় ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয় । মালিক ও চালক আরও জানায়,কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে স্হানীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজশ রয়েছে । তারা মিলেমিশে চাঁদার টাকা ভাগ বাটোয়ারা করেনেন । এ বিষয়ে বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টি আই) আবদুল আলিম প্রতিবেদক কে জানান,দক্ষিণখান ও উত্তরথান থানা এলাকায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই । অতএব এলাকায় ইজিবাইক ও অটোরিকশা হতে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই । তবে রাস্তা থেকে আটক করে রেকার বিল বাবদ ১২শ টাকা নেয়া হয় । চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৪শ ইজিবাইক ও অটোরিকশা আটক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেয়া হয়েছে । মালিক ও চালক ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলতে পারে । অভিযোগ রয়েছে নব্য ঘোষিত সিটি কর্পোরেশন (সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ) দক্ষিণখানে প্রতিটি জিবাইক ও অটোরিকশা থেকে লাইসেন্স দেয়ার নামে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় । তবে ইনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিবেদক কে জানায়,ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইসেন্স বাবদ আদায়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয় । এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান,রাস্তায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচলে কোনো সরকারি অনুমোদন নেই । এ সব যানবাহনে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে ব্যাপক । মাঝে মধ্যে এ সব যানবাহন আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয় । তা ছাড়া কোনো ট্রাফিক পুলিশের সদস্য,ইজিবাইক ও অটোরিকশা থেকে চাঁদা নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে । এ বিষয়ে পুলিশের একটি গোয়েন্দা টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে । এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা প্রতিবেদক কে জানান,অত্র এলাকার চলাচলের একমাত্র বাহন হচ্ছে ইজিবাইক ও অটোরিকশা । যার কারনে পুলিশ কিছু বলেনা । তবে পুলিশের চাঁদা নেয়ার বিষয়টি সত্যি নয় । উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন প্রতিবেদক কে জানায়,স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদ টাকার বিনিময়ে ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়,যাতে রাস্তায় চলাচল করতে পারে । তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ যানবাহন চলাচলের কোনো অনুমতি নেই । এ সব যানবাহন থেকে কোনো পুলিশ সদস্যের চাঁদা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই । প্রমান সহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেয়া হবে ।

নতুনখবর/সোআ

Comments

comments

পাঠকের কিছু জনপ্রিয় খবর

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদার বিনিময় চলে ইজিবাইক ও অটোরিকশা ।।


বিস্তারিত

খালাফ হত্যার রায় হয়নি, আপিল বিভাগে পুনঃশুনানি


বিস্তারিত

বিশ্বজিৎ হত্যা : হাইকোর্টের রায় ৬ আগস্ট


বিস্তারিত

আবারও জা‌মিন পে‌লেন আরাফাত সা‌নি


বিস্তারিত

মাগুরায় স্ত্রী-কন্যা হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত


বিস্তারিত

তাভেল্লা হত্যা: কাইয়ুমের ভাই মতিন জামিনে


বিস্তারিত

১৫ বছরেও বিচার নেই মডেল তিন্নি হত্যার


বিস্তারিত

বছরের অর্ধেক দিন বন্ধ সুপ্রিম কোর্ট


বিস্তারিত

চতুর্থ শ্রেণীর স্কুল ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে পুলিশ এসল্ট মামলায় আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল!


বিস্তারিত

আগেও একটি বিয়ে করেছেন ক্রিকেটার সানি


বিস্তারিত

মানিকগঞ্জে হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ


বিস্তারিত

সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদকে বিজ্ঞ আদালত জামিন দিয়েছেন


বিস্তারিত

‘তোরে জজ বানাইছে কেডা’ যারা বলে তাদের হাতে বিচার বিভাগ ছাড়া ঠিক হবে না


বিস্তারিত

জরুরি অবস্থায় বেআইনিভাবে অর্থ নিয়েছিল ডিজিএফআই: সুপ্রিম কোর্ট


বিস্তারিত

খালেদার ৩ মামলা স্থগিত


বিস্তারিত

সাঈদীর রিভিউ আজকের কার্যতালিকায়


বিস্তারিত

সুপ্রিম কোর্টে ছুটি শুরু, অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন


বিস্তারিত

মুফতি হান্নানের সঙ্গে দেখা করলেন চার স্বজন


বিস্তারিত