কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপে ভুগছেন ৪৩ ভাগ নারী পোশাক শ্রমিক Reviewed by Momizat on . নতুনখবর ডেস্ক : ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছে। যার প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর। আর নতুনখবর ডেস্ক : ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছে। যার প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর। আর Rating:
You Are Here: Home » অর্থনীতি » কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপে ভুগছেন ৪৩ ভাগ নারী পোশাক শ্রমিক

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপে ভুগছেন ৪৩ ভাগ নারী পোশাক শ্রমিক

নতুনখবর ডেস্ক : ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছে। যার প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর। আর বাংলাদেশে ২০-২৯ বছর বয়সী নারী পোশাক শ্রমিকদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, তাদের ৪৩ ভাগ কর্মক্ষেত্রজনিত মানসিক চাপে ভুগছেন।’ আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। সারা বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিবস পালন করা হয়।

এ বছর ‘কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য’ এই শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। সভা, সেমিনার, কাউন্সেলিং, শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, গ্রামাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা না দিয়ে ঝাড়ফুঁক বা তাবিজ-কবজের আশ্রয় নেন। কুসংস্কার দূর করে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অধিকতর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সকলের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। সব ধরনের মানসিক রোগের সময়মত বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য একটি সমন্বিত বিষয় এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য অপরিহার্য। আর্থ-সামাজিক নানা কারণে বিশ্বব্যাপী বিষণ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও মানসিক রোগের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি প্রতিরোধে শরীরের মতো মনেরও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এবছর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য’ যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে স্বাস্থ্যসম্মত ও কর্মবান্ধব পরিবেশ, প্রয়োজনীয় ছুটি ও বিনোদনের সুযোগ, ধারাবাহিক ঝুঁকিপূর্ণ ও চাপযুক্ত কাজ পরিহারসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি। ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৭’ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, মানসিক রোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অসংক্রামক ব্যাধি। আমাদের দেশে মানসিক রোগের কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানসিক সমস্যার কারণে কর্মদক্ষতা হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্য সেবাসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকার ও সুযোগের সমতা বিধানে বদ্ধপরিকর। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে। যা ছিল মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অগ্রগতিতে একটি মাইলফলক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, মানসিক রোগ চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি কর্মস্থল মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব হয়ে উঠবে এবং দেশের প্রতিটি জনগণ সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন নিয়ে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ৫০ ভাগ কর্মী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন না। যুক্তরাজ্যের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৫ ভাগ কর্মী তাদের কর্মক্ষেত্রকে মানসিক চাপ সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করেন। ২০১৩ সালে ৩১টি ইউরোপীয় রাষ্ট্রের ওপর পরিচালিত এক জরিপে ৫০ ভাগেরও বেশি কর্মী তাদের কাজের ধরন ও কর্মক্ষেত্রকে মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতর এবং এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখ চত্বরে দিনব্যাপী একটি স্টলের উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের কনফারেন্স হলে ‘মানসিকভাবে সুখী ও সমৃদ্ধ থাকার উপায়’, ‘কর্মস্থলে মানসিক চাপ ও নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইকোলজি ইন মেন্টাল হেলথ’ শীর্ষক ৩টি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে।

বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক আলম, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশিদ এবং এল.এফ.এম.ই.এ.বির সভাপতি ও পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. সায়ফুল ইসলাম।

নতুনখবর/সোআ

Leave a Comment