নায়করাজের স্মৃতিতে তারকারা… Reviewed by Momizat on . বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে লিখতে হলে যে তারকার নাম প্রথম লাইনে আসে তিনি নায়করাজ রাজ্জাক। তার হঠাত্ করে চলে যাওয়ায় যেন ম্লান হয়ে গেল চলচ্চ বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে লিখতে হলে যে তারকার নাম প্রথম লাইনে আসে তিনি নায়করাজ রাজ্জাক। তার হঠাত্ করে চলে যাওয়ায় যেন ম্লান হয়ে গেল চলচ্চ Rating:
You Are Here: Home » বিনোদন » নায়করাজের স্মৃতিতে তারকারা…

নায়করাজের স্মৃতিতে তারকারা…

বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে লিখতে হলে যে তারকার নাম প্রথম লাইনে আসে তিনি নায়করাজ রাজ্জাক। তার হঠাত্ করে চলে যাওয়ায় যেন ম্লান হয়ে গেল চলচ্চিত্রের আবহাওয়া। বিএফডিসিতে নায়করাজের পায়ের ছাপ এখনও মুছে যায়নি। কত শতবার যে এই জায়গাটিতে তিনি হেঁটে বেড়িয়েছেন সে হিসেব দেওয়ার মতো কেউ নেই। শেষবারের মতো নায়করাজ বিএফডিসিতে গতকাল সকাল ১১টায়, তবে প্রাণহীন শরীরে। বিএফডিসিতে জানাজা শেষে নায়করাজের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তাকে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

সুচন্দা

পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ছবিতে আমরা জুটি বেঁধে কাজ করেছি। জীবনের সুন্দর দিনগুলো আমরা একসঙ্গে এফডিসিতে শুটিং করে কাটিয়েছি, গল্প করেছি, আড্ডা দিয়েছি, ঝগড়া করেছি, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছি। চলচ্চিত্রের জন্য এক হয়ে কাজ করেছি। শুটিং না থাকলেও আমরা শুধু আড্ডা দেওয়ার জন্য এফডিসিতে ছুটে এসেছি। এই এফডিসিতেই তাকে বিদায় জানাতে বড় কষ্ট হচ্ছে। তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু ও সহকর্মী ছিলেন। দেশ স্বধীন হওয়ার পর তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান করেছিলেন। সেখানে আমিও বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছি। অনেক কাছ থেকে দেখেছি চলচ্চিত্র নিয়ে কীভাবে কাজ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি দিন তৈরি করতে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। আজ তার এই স্মৃতিগুলো মনে করতে অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে।

শাবানা

ইতিহাসের এই মহানায়ককে নিয়ে আমি কি বলবো। উনি কতটা বড়মাপের অভিনেতা তা সবাই জানে। তার সাথে আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে। পুরো অনুষ্ঠানের মাঝে শুধু একবার কথা হয়েছিল আমাদের। একটি বার দেখা হওয়াটাও আমার কাছে অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। দেখা হওয়ার সময় তিনি আমাকে তার বাসায় যাওয়ার জন্য দাওয়াত দেন। কিন্তু তখন আমি গেলাম না। ওনাকে বলেছিলাম আগামী ডিসেম্বর মাসে আমি আবার দেশে আসবো, তখন তার বাসায় গিয়ে সারাদিন থাকবো, আড্ডা দেবো। কিন্তু তা আর হলো না। এখন দেশে না থাকার কারণে ওনাকেও শেষবারের মতোও দেখা হচ্ছে না। এমনটা ঘটবে জানলে তো আমি এই সুযোগটা হাতছাড়া করতাম না। আমি ওনাকে নিয়ে বলার মতো ভাষা আর খুঁজে পাচ্ছি না। বাংলা চলচ্চিত্রে রাজ একজনই, তাকে আর ফিরে পাবো না। তিনি ছিলেন আপদমস্তক চলচ্চিত্রের একজন মানুষ।

শাকিব খান

কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারিনি যে, আমার এই অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমি যখন এই খবরটি শুনি তখন শোকে স্তব্ধ হয়ে যাই। কি করবো, কি বলবো কিছুই বুছে উঠতে পারছিলাম না। এক কথায় খবরটা শোনার পর ভীষণ একটা ধাক্কা খেলাম। উনি আমার অভিভাবক ছিলেন। তাকে এভাবে হারাবো ভাবতে পারিনি। তার শূন্যতা কিছুতেই পূরণ হবে না। উনি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সম্পদ। মাথার ওপর থেকে ছায়া হারালাম। আমার ক্যারিয়ারের দুঃসময়ে উনিই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি একজন মহানায়ক।

আসাদুজ্জামান নূর

সংস্কৃতি অঙ্গনে নায়করাজ ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। চলচ্চিত্রকে মানুষের অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া মানুষটি তিনিই। রাজ্জাক শুধু চলচ্চিত্র জগতের নীল আকাশের নিচে একাই পথ চলেননি, অন্যদের পথচলা শিখিয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রে আবার নায়করাজের সেই সোনালি দিন ফেরানো গেলেই তাকে যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো যাবে।

শাবনূর

তিনি আমার একজন অভিনেতা, শিক্ষক। অনেকদিন আগে তার জন্মদিনে দেখা হয়েছিল। আমরা তার বাসায় গিয়েছিলাম। কত দুষ্টুমি করেছিলাম। আমাকে দেখেই হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘আয় মা, কাছে এসে বোস। কতদিন পর তোকে দেখলাম।’ তিনি আমাকে প্রচণ্ড আদর করতেন। ‘তুই’ করে বলতেন। তার যেকোনো আয়োজনে যাওয়ার চেষ্টা করতাম। চলচ্চিত্রে আমি অনিয়মিত হওয়ায় অনেকেই মন খারাপ করতেন। তাদের মধ্যে রাজ্জাক আংকেল ছিলেন অন্যতম। ওনার এই খবরটি শুনে এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। আগে যেমন ওনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে তা গুজবে পরিণত হয়েছে এবারেও যদি এমনটা হতো খুব ভালো হতো। রাজ্জাক আংকেল ছিলেন আমার বাবার মতো। শুধু আমার নয়, চলচ্চিত্রের প্রতিটি মানুষ তাকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করতেন। তার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখেছি। আমি কিছুতেই মানতে পারছি না তিনি আর নেই। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন এখনও।

মিশা সওদাগর

আমার অভিনয় ক্যারিয়ারে দেখেছি রাজ্জাক সাহেব ছিলেন বটবৃক্ষের মতো। সবসময় তিনি চলচ্চিত্রের পাশে ছিলেন। আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের জন্য তিনি যে কত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ তা বলে বা লিখে ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব না। তার নামের মধ্যে যে ভার, সেটা বহন করা কঠিন একটা কাজ। তাকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস আমার কখনও হয়নি। তিনি নিজেই একজন ইনস্টিটিউট। তার মৃত্যুতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেল। একজন অভিভাবককে হারালাম। এ ক্ষতি কখনও পূরণ হবে কি-না জানি না। এই ইন্ডাস্ট্রি তার অবদান কোনোদিন ভুলবে না।

নতুনখবর/সোআ

About The Author

Number of Entries : 2090

Leave a Comment

© 2011 Powered By Wordpress, Goodnews Theme By Momizat Team

Scroll to top