ঢাকাআজ শুক্রবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ২রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরীরাত ১১:০৬

148 বার পড়া হয়েছে «

গভীরতম শোকের মাস আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : পৃথিবীর কোনো জাতির ইতিহাসে আমাদের মতো শোকাবহ আগস্ট আছে কিনা জানা নেই। আগস্ট দুর্বিষহ, গভীরতম শোকের মাস আমাদের জাতীয় জীবনে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালির প্রিয় নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীসহ পরিবারের প্রায় সকলকেই ঘাতক চক্র নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। শিশু রাসেলকেও কতখানি বর্বর ও নৃশংস হলে এই শিশুটিকেও তারা বাঁচতে দেয়নি। আমি শুরুতেই বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের অকাল প্রয়াণের নিন্দা জানাই, ঘৃণা জানাই। একই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধায় অবনতচিত্তে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সবাইকে স্মরণ করি।

এ মাসটি আমাদের জন্য দুঃখের, লজ্জা এবং অসহনীয় কষ্টের। যত দিন যাচ্ছে গবেষক, রাজনীতি বিশ্লেষক, ইতিহাসবিদগণ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্যকে তত্ত্ব-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরবার চেষ্টা করছেন, যথেষ্ট না হলেও সময় লাগবে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের। তবে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাশ্রিত রাজনৈতিক প্রবাহ বা ধারাকে আমূল দিক পরিবর্তনের একটি কুপ্রচেষ্টা ছিল। শুধু দিক পরিবর্তন বলি কেন বরং বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দর্শনাশ্রিত গতিধারা চিরতরে রুদ্ধ করে বাংলা ও বাঙালির চিরায়ত রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিরোধী একটি উদ্ভট দর্শন এবং প্রক্রিয়া চালু করবার অপচেষ্টা হয়েছে।

হাজার বছরের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা এবং বঙ্গোপসাগরের কূলে কূলে যে জনপদের বাস সেই জনপদের সংস্কৃতিতে সর্বত্রভাবে অনুধাবন এবং আত্মস্থ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তাঁর রাজনৈতিক চর্চায় তিনি এই জনপদের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিকে জীবন দর্শন হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। হয়েছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক বাঙালি জাতির।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা এবং অতিবিপ্লবের শ্লোগানদারীরা তাই আন্তর্জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের দেশীয় এজেণ্ডা হিসাবে এই মহানায়ককে নিষ্ঠুর, বর্বরভাবে হত্যা করেছিল। এ শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা নয়, বাংলাদেশের হূদয়কে কেটে-ছিঁড়ে রক্তাক্ত করা।

পনের আগস্ট পঁচাত্তর সালের সকাল ছিল রাতের চেয়েও অন্ধকার। জাতির সৌভাগ্য সেদিনের সেই নৃশংসতার শিকার থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এবং এটা বোধ হয় আমাদের জন্য ছিল মহান ঈশ্বরের আশীর্বাদ। শেখ হাসিনা তার পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো করতে পারছেন বলেই আজ আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দর্শন, আদর্শকে আঁকড়ে ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পথে চলতে পারছি। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন এবং বিচার কার্যকরীও করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও মানবাধিকারের শত্রুদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারও সম্পন্ন করে চলেছেন এবং তা কার্যকরীও করছেন। এটা কতিপয় রাজাকারপন্থি ছাড়া সকল মানুষের কাঙ্খিত ছিল।

পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের পর থেকে শোককে শক্তিতে পরিণত করার যে প্রক্রিয়া চলছে সেই শক্তিতেই আমরা একদিন বিশ্বমঞ্চে বাঙালি জাতি হিসাবে শির উঁচু করে দাঁড়াবো। আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বৈশ্বিক রাজনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অর্জনগুলো প্রমাণ করে শত আঘাতের শত চক্রান্তেও এই ছোট ভূখণ্ডের মানুষ যে মাথা নোয়াবার নয়। ইতিহাসও তাই বলে।

[ লেখক: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাট্যকার]

 

নতুনখবর/সোআ

Comments

comments

পাঠকের কিছু জনপ্রিয় খবর

মেক্সিকোয় ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত শতাধিক


বিস্তারিত

নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী


বিস্তারিত

ঢাকা আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস


বিস্তারিত

গাইবান্ধায় প্রধানমন্ত্রী……


বিস্তারিত

শেষ হচ্ছে না হজযাত্রীদের অনিশ্চয়তা


বিস্তারিত

বানভাসি মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী


বিস্তারিত

প্রধান বিচারপতির সরে যাওয়া উচিত ছিল: প্রধানমন্ত্রী


বিস্তারিত

বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট আজ


বিস্তারিত

গভীরতম শোকের মাস আগস্ট


বিস্তারিত

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী আজ


বিস্তারিত

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইইউ, স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী


বিস্তারিত

আজ আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস


বিস্তারিত

হজযাত্রায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি


বিস্তারিত

শোকাবহ আগষ্ট


বিস্তারিত

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন কাল


বিস্তারিত

ভোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় আওয়ামী লীগ


বিস্তারিত

ঢাকায় নতুন খাল খনন হচ্ছে, সংরক্ষণ হবে পুরনোগুলো


বিস্তারিত

বাঘ দিবস আজ


বিস্তারিত