সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল শাহবাগ Reviewed by Momizat on . নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। সহস্রাধিক শিক্ষা নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। সহস্রাধিক শিক্ষা Rating:
You Are Here: Home » জাতীয় » সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল শাহবাগ

সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল শাহবাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর শাহবাগে জাদুঘরে সামনে সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। পুলিশ তাদেরকে রাস্তায় দাঁড়াতে দিচ্ছে না। তারা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছেন।

সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হচ্ছে, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এই সাত কলেজের প্রত্যেকটিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩০টি বিষয়ে পড়ানো হয়। প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই লক্ষাধিক।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়ার পাঁচ মাসেও তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা পায়নি যার মাধ্যমে তারা জানতে পারে, তাদের পরীক্ষা কবে হবে, একাডেমিক সিলেবাস কী হবে, পরীক্ষাপদ্ধতি কেমন হবে, প্রশ্নের ধরণই বা কেমন হবে বা কেমন হবে প্রশ্নের মানবন্টন?

জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের এবং ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৬-৭ মাস আগে অনুষ্ঠিত হলেও সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় এসব কলেজের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাইভা/ব্যবহারিক পরীক্ষা এখনো পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। যেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা অন্যান্য কলেজের এই বর্ষের ফলাফল পর্যন্ত ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের এবং ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৬-৭ মাস আগে সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসব পরীক্ষা কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত প্রথম মেধা তালিকা থেকে কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় এসব কলেজে আবেদনকৃত প্রথম মেধা তালিকায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব কলেজে আবেদনকৃত প্রথম মেধা তালিকায় অনুত্তীর্ণ যেসব শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারেনি তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোস্টার ও প্লে-কার্ড বহন করছেন। একটি প্লে-কার্ডে লেখা রয়েছে, ‘সেশনজটের প্রহসন, করতে হবে নিরসন।’ আরেকটিতে লেখা আছে, ‘হইছে অনেক সময় ক্ষেপণ, শীঘ্রই করতে হবে দাবি পূরণ।’

সরকারি তিতুমীর কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী বর্ষা আক্তার বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যাওয়ার পর আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বেশ কয়েক মাস চলে গেলেও এখনো আমাদের কোনো পরীক্ষা নেয়া হয়নি। এখনো নাকি কোনো নীতিমালাই করা হয়নি। কবে পরীক্ষা হবে সেটাও আমরা জানি না। আমাদের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যারা ছিলেন তারা ইতোমধ্যে পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষা করছেন।’

এই শিক্ষার্থী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘কোনো নীতিমালা না করে হুট করে এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আমাদেরকে দিয়ে দেয়া প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা যে সেশনজটে পড়লাম এর দায় কে নেবে?’

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি

১. অধিভুক্ত হওয়া কলেজসমূহের ব্যাপারে নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রকাশ (একাডেমিক সিলেবাস, পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নের ধরণ, প্রশ্নের মানবন্টন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কলেজসমূহের সম্পর্ক ইত্যাদি)।

২. সম্মান ২য় ও ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভাইভা/ব্যবহারিক পরীক্ষা অতি অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা।

৩. সম্মান তৃতীয় বর্ষের এবং মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রহণ।

৪. ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্বের ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।

৫ ডিগ্রির আটকে থাকা সব বর্ষের পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা।

৬. অধিভুক্ত কলেজসমূহের সব তথ্য সংবলিত একটি ওয়েবসাইট তৈরি।

৭. শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সেশনজট নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

 

নতুনখবর/সোআ

Leave a Comment