বড়াইগ্রামে খলিশাডাঙ্গা নদী পারাপারে বাঁশের সাঁকো একমাত্র ভরসা Reviewed by Momizat on . মনজুরুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরে বড়াইগ্রামের গড়মাটি-ব্রক্ষত্রপারগোপালপুর নামক স্থানে খলিশাডাঙ্গা নদী পারাপারে হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সা মনজুরুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরে বড়াইগ্রামের গড়মাটি-ব্রক্ষত্রপারগোপালপুর নামক স্থানে খলিশাডাঙ্গা নদী পারাপারে হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সা Rating:
You Are Here: Home » জেলার খবর » নাটোর » বড়াইগ্রামে খলিশাডাঙ্গা নদী পারাপারে বাঁশের সাঁকো একমাত্র ভরসা

বড়াইগ্রামে খলিশাডাঙ্গা নদী পারাপারে বাঁশের সাঁকো একমাত্র ভরসা

মনজুরুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরে বড়াইগ্রামের গড়মাটি-ব্রক্ষত্রপারগোপালপুর নামক স্থানে খলিশাডাঙ্গা নদী পারাপারে হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন  বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যহত হচ্ছে যেমন শিক্ষা ব্যবস্থা, তেমনি মুখ থুবড়ে পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। এ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হয় উপজেলার গোপালপুর ইউপি’র গড়মাটি ও নওগ্রামের, নগর ইউপি’র রক্ষত্রগোপালপুর,পারগোপালপুর, মহেশপুর, পারকোল ও দ্বারীখৈর এবং চান্দাই ইউপি’র কৃষ্ণপুর গ্রামের মানুষ। সাঁকোটি সংলগ্ন খলিশাডাঙ্গা নদীর তীরে রয়েছে ব্রক্ষত্রপারগোপালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্ম প্রতিষ্ঠান মন্দির। উপজেলার পাঁচবাড়ীয়া কালীবাড়ী থেকে ব্রক্ষত্রগোপালপুর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা ও গড়মাটি মহাসড়ক থেকে গড়মাটি ঘাট পর্যন্ত রাস্তার সংযোগস্থল হচ্ছে নড়বড়ে এ বাঁশের সাঁকোটি। গর্ভমতি মা, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসুস্থ রুগীদের এ সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার করা বা হওয়া যেমন ভীতিকর অবস্থা, তেমনি খুব কষ্ট ও ঝুকিপূর্ণ ব্যাপার। এলাকার আধিকাংশ মানুষ হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ী। কৃষকের উৎপন্ন কৃষিপণ্য আলু, বেগুন, থেঁড়স, পিয়াজ, রসুন, ধান, পাট ও ইক্ষু বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হয় কৃষকরা। এতে থুবড়ে পড়ছে এলাকার গ্রামীণ জনগণের অর্থনীতি। সাঁকোর পাশে বসবাসকারী শ্রীমতি যমুনা রাণী বিশ্বাস জানান, “বর্ষা মওসুমে সাঁকো পারাপারের সময় স্কুলগামী শিশুরা মাঝে-মাঝে পড়ে যায় নদীর পানিতে। ভিজে যায় বই-পুস্তক। ২০০০ সালে সাঁকো থেকে কচুরীপানা পূর্ণ নদীর পানিতে পড়ে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। সেজন্য স্কুলে যাতায়াতের সময় অনেক মায়েরা বর্ষা মওসুমে প্রতিদিন তাদের শিশুদের পার করে দেয় সাঁকোটি।”

এলাকার আবুল হোসেন ও সেকেন্দার হোসেন জানান, “প্রয়োজনের তাগিদে সেচ্ছাশ্রমে ঝাড়ের বাঁশ কেটে মাচা বানিয়ে এবং প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ে পিলার, রড, এঙ্গেল ও লৌহা ক্রয় করে  দশ বছর আগে ৮০ মিটার দীর্ঘ এ বাঁশের সাঁকোটি তৈরী করেছিল এলাকাবাসী। বাঁশ পচনশীল বস্তু, তাই প্রতিবছরই সাঁকোটি মেরামতে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ ব্যয় বহন এলাকাবাসীর কাছে হয় কষ্টদায়ক।” এবিষয়ে  উপজেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আ. সালাম ও নগর ইউপি চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন ডালু জানান, “জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে নগর ইউনিয়নের পাঁচাবাড়ীয়া কালীবাড়ী থেকে গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি ঘাট রাস্তার গড়মাটি-ব্রক্ষত্রপারগোপালপুর নামক স্থানে একটি ব্রীজ নির্মান করা দরকার। নড়বড়ে সাঁকোটি দিয়ে চলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ। তবে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে  ব্রীজটি নির্মান করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।”

সাঁকোটির উপর দিয়ে পারাপারে ব্যাস্ততা কমানোর জন্য পাশেই তৈরী করা হয়েছে আরেকটি বাঁশের আড়। সমাজসেবক আক্কাস আলী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কার্ত্তিক চন্দ্র জানান, “ইতোপূর্বে নাটোর -৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আ’লীগ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে গড়মাটি-ব্রক্ষত্রপারগোপালপুর নামক স্থানে ব্রীজ নির্মানের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং সে মোতাবেক উপজেলা প্রকৌশলী সহিদুল ইসলাম মাফ-জোঁক ও করেছিলেন। কিন্তু এ পর্যন্ত ব্রীজ নির্মান হয়নি। এলাকাবাসীর দাবী হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গড়মাটি ঘাটে একটি ব্রীজ নির্মান অত্যন্ত জরুরী।”

নতুনখবর/সোআ

Leave a Comment