শুধু উপোষ করা মানেই রোজা নয়। Reviewed by Momizat on . মোঃ হাসিবুর রশীদঃ রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রাখার পরও মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকে না তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয় মোঃ হাসিবুর রশীদঃ রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রাখার পরও মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকে না তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয় Rating:
You Are Here: Home » ইসলাম » শুধু উপোষ করা মানেই রোজা নয়।

শুধু উপোষ করা মানেই রোজা নয়।

মোঃ হাসিবুর রশীদঃ রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রাখার পরও মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকে না তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বোখারি : ১৯০৩)। জৈবিক তাড়না থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্যই রোজার বিধান রাখা হয়েছে। আর এ রোজার সার্থকতা তখনই অর্জিত হবে যখন পেটের মতো চোখ, কানসহ প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অনুভূতির সিয়াম পালন করা হবে। অর্থাৎ হারাম কাজ থেকে বিরত রেখে ওইসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অনুভূতিকে তাদের জন্য নির্ধারিত ইবাদতে ব্যস্ত রাখাই হলো রোজার লক্ষ্য। রোজার আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে বান্দাকে গোনাহমুক্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে মুত্তাকী হিসেবে গড়ে তোলা।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে মোমিনরা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)। রমজান মাসে পানাহার থেকে বিরত থাকার পেছনে যদি তাকওয়া অর্জিত না হয় তাহলে এ রোজা শুধু দৈহিক রোজাই হবে, দেহের বাইরে এ রোজার আলাদা কোনো তাৎপর্যই থাকবে না। কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা ইত্যাদি রিপুর তাড়নায় মানুষ যখন দিশেহারা ও বিপথগামী হয়ে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়; তখন রোজা মানুষের এসব কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের শক্তি জোগায়। এ কারণেই রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচার জন্য ঢালের মাধ্যমে বান্দা আগুন থেকে মুক্তি পায়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৫২৬৪)। তাই রোজার সওয়াব পেতে হলে ক্ষুধা-তৃষ্ণার বাইরে সব ধরনের খারাপ কাজ থেকেও আত্মরক্ষা করতে হবে। পঞ্চেন্দ্রিয়কে সংযত রাখতে হবে। তাহলেই প্রকৃত রোজাদার হিসেবে পরিগণিত হওয়া যাবে।

সর্বোপরি, রমজান এমন একটি কর্মশালা যেখানে রোজাদারকে সুনাগরিক বানানোর জন্য দেয়া হয় বহুবিধ প্রশিক্ষণ। বাস্তব জীবনে কীভাবে নিজেকে সংশোধন করবে, কীভাবে আল্লাহর হুকুমের প্রতি আস্থাশীল হবে, কীভাবে হারাম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে ইত্যাদি প্রশিক্ষণ এ মাসে পাওয়া যায়। সামাজিক জীবনে চলমান অশান্তি এবং অস্থিরতা দূর করতে হলে পরিবর্তন আনতে হবে মানুষের মানসিকতায়। আর রমজানের শিক্ষাই পারে মানুষের অন্তর জগতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে। মানুষের চরিত্র ও মানসিকতায় পরিচ্ছন্নতা ও দৃঢ়তা সৃষ্টিতে রমজানের শিক্ষার বিকল্প নেই। রমজানের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে যেনা-ব্যভিচার ও ধর্ষণের হাত থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাই তো যুবসমাজকে সম্বোধন করে রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘হে যুবকরা! যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টিকে সংরক্ষণ করে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা এটি তার জন্য সুরক্ষা।’ (বোখারি : ১৮০৬)। সিয়াম সাধনায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে মোমিন বান্দারা আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম অর্জন করার এক সুবর্ণ সুযোগ লাভ করে এবং আধ্যাত্মিকভাবে নিজেদের গঠন করতে সক্ষম হয়।

নতুনখবর/সোআ

Leave a Comment