মহম্মদপুরে শেখ হাসিনা সেতুর অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ না পেয়ে হতাশ স্থানীয়রা। Reviewed by Momizat on . মোঃ হাসিবুর রশীদ (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ মাগুরার মহম্মদপুর একটি অবহেলিত উপজেলা। মধুমতি এবং নবগঙ্গা নদী বেষ্টিত এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। মহম্মদপুরের গ মোঃ হাসিবুর রশীদ (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ মাগুরার মহম্মদপুর একটি অবহেলিত উপজেলা। মধুমতি এবং নবগঙ্গা নদী বেষ্টিত এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। মহম্মদপুরের গ Rating:
You Are Here: Home » আন্তর্জাতিক » Uncategorize » মহম্মদপুরে শেখ হাসিনা সেতুর অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ না পেয়ে হতাশ স্থানীয়রা।

মহম্মদপুরে শেখ হাসিনা সেতুর অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ না পেয়ে হতাশ স্থানীয়রা।

মোঃ হাসিবুর রশীদ (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ মাগুরার মহম্মদপুর একটি অবহেলিত উপজেলা। মধুমতি এবং নবগঙ্গা নদী বেষ্টিত এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। মহম্মদপুরের গনমানুষের দাবি ছিল মধুমতি নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা। সেই দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা সদরের জাঙ্গালিয়ার বাশঁতলা ঘাট এলাকায় ৬০০.৭০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেণ মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য, যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রী বীরেণ শিকদার।  ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর সেতুটির কাজের কার্যাদেশ পায় ম্যাক্স-রেনকিন নামের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে মাটি পরীক্ষা ও মার্চে মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৪ হাজার ৭০৫ টাকা ব্যায়ে ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। রাতে এবং দিনে দুটি আলাদা শিফটে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে সেতুটির নির্মাণ কাজ। সেতুটির পশ্চিম পাড়ে ১ হাজার ২৭৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট সংযোগ সড়কের জন্য ৫০ জন ব্যক্তির ২০১.৬৩৭ শতক এবং পূর্ব পাড়ে ১ হাজার ২৭৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট সংযোগ সড়কের জন্য ১৫ জন ব্যক্তির ২৫২.৫৭৫ শতক জমি অধিগ্রহন করেছে এলজিইডি। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী জমির শ্রেনীভেদে নদীর পূর্বপাড়ের জমির মালিকেরা শতকপ্রতি ৫৭ হাজার ও পশ্চিম পাড়ে ৩৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবেন।কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে আসলেও অধিগ্রহণ করা জমির টাকা না পেয়ে চরম হতাশায় আচ্ছন্ন ক্ষতিগ্রস্থরা। এ বিষয়ে এলজিইডির কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, গত বছরের জুন মাসে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা জেলা প্রশাসনকে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের চেক দিতে শুরু করেছেন বলে একজন কর্মকর্তা জানান।

সেতু সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, নদীর পশ্চিম পাড়ে অধিগ্রহণ করা জমির উপরে ছাপড়া ঘর থেকে শুরু করে দ্বিতল দালান, এমনকি পাকা মসজিদ পর্যন্ত আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র কয়েকশত গজ দুরে হলেও দলিলে উল্লেখিত জমির শ্রেনীর কারণে আমরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে নাম মাত্র মূল্য পাচ্ছি। ব্যক্তিমালিকানায় থাকা এখানের জমি শতকপ্রতি প্রায় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। অথচ পূর্বপাড়ের বালুচরের কৃষি জমিতে শতকপ্রতি দেয়া হচ্ছে ৫৭ হাজার টাকা। ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় এসব পরিবারকে সরানোর কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এতে পশ্চিম পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দা কাইয়ুম শেখ বলেন, এলাকার উন্নয়নে একটা ভাল কাজ হচ্ছে এজন্য আমরা ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। শুনছি যে কোনো সময় আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দেবে। অন্যত্র জমি কিনে ঘর তুলতে সময় এবং টাকা দরকার। এখন টাকা না পেলে আমরা করব কি?

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, জমি অধিগ্রহন এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান করা একটা জটিল প্রক্রিয়া। আইন মেনে বেশ কয়েকটি ধাপে কাজ শেষ করতে হয়। ইতঃমধ্যে জেলা প্রশাসক জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরনের চেক হস্তান্তর শুরু করেছেন।

মহম্মদপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গত বছরের জুন মাসে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের সব টাকা জেলা প্রশাসন কে পরিশোধ করা হয়েছে। এ টাকা জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্থদের দেবে।কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী রবিউল কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

উল্লেখ্য, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মধুমতি নদীর উপর শেখ হাসিনা সেতু চালু হলে মাগুরা নড়াইলের সঙ্গে পাশের ফরিদপুর জেলার মেলবন্ধন তৈরি হবে। তাদের উৎপাদিত পণ্য স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে পারবে। এছাড়া উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এলাকার লাখ লাখ মানুষের জীবনমান বাড়ার আশার সঞ্চার হবে।

নতুনখবর/সোআ

Leave a Comment