ঢাকাআজ বুধবার ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ২৪শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরীভোর ৫:২২

109 বার পড়া হয়েছে «

একই ঘরে তিন সন্তানসহ মায়ের লাশ, স্বামীর দিকেই সন্দেহের তীর ।।

মোঃ ইলিয়াছ মোল্লাঃ  তিন সন্তানের লাশ এক রুমে । তাদের মায়ের লাশ অন্য রুমে । পুলিশ যখন চারজনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওই বাড়িতে যায়, তখন রেহেনা পারভীনের লাশ মেঝেতে নামানো ছিল । পুলিশ যাওয়ার পর রেহেনার স্বামী মোস্তফা কামাল বলেন, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকা রেহেনার লাশ নামিয়ে আনেন তিনি নিজেই । আর এতেই সন্দেহ বাড়ে পুলিশের । এ ঘটনায় নিহতের ভাই সামছুল আলম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই তুরাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন । ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গতকাল রাজধানীর তুরাগ থানার কালিয়ারটেকের ওই টিনশেডে বাড়িতে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন । রেহেনা যে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে বলা হচ্ছে সে ফ্যান ও ওড়না জব্দ করেছে পুলিশ । তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবে খোদা বলেন, মামলায় রেহেনার স্বামী মোস্তফা কামাল ও তার বোন কহিনূরের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । মামলার পর কামালকে  আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে । এর আগে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাসা থেকে লাশ চারটি উদ্ধার করে পুলিশ । চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এ ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে । চার লাশের ময়নাতদন্ত শুক্রবার সম্পন্ন হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে । পরে তাদের লাশ ওই দিনই বাদ মাগরিব জানাজা শেষে কালিয়ারটেক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে । নিহতরা হলেন— রেহেনা পারভীন (৪০), তার তিন সন্তান শান্তা (১৩), শেফা (৯) ও সাদ (১১ মাস)। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে । মেয়ে শান্তা কামারপাড়ায় পরশমণি ল্যাবরেটরি স্কুলের ৫ম শ্রেণিতে এবং শেফা ১ম শ্রেণিতে পড়ত । নিহতের পরিবার বলছে, মোস্তফা কামালসহ তার পরিবারের লোকজন একত্রিত হয়ে রেহেনাসহ তার তিন সন্তানকে হত্যা করতে পারে । কিংবা তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে রেহেনা আত্মহত্যা করতে পারে । নির্মম এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা । ময়নাতদন্তকারী ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে তিন শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে । তবে মায়ের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে সে সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি । তিনি বলেন, মায়ের মৃত্যুর কারণ জানতে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে । মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে ঘরে রেহেনা আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেই ঘরে উঁচু কোনো চেয়ার পাওয়া যায়নি । প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি চকি পাওয়া গেছে । যা দিয়ে ফ্যানের ওপর পর্যন্ত হাত যাওয়া অসম্ভব । এ ছাড়াও ফ্যানে ওড়না বা রশি জাতীয় কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করলে অবশ্যই তার ছাপ থাকবে । কিন্তু কোনো ছাপ পাওয়া যায়নি ফ্যানে । গতকাল রেহেনার স্বামী পুলিশের কাছে বলেন, তিনি নিজেই লাশ নামিয়েছেন । আজ  ও গতকাল জিজ্ঞাসাবাদে লাশ নামানোর সময় আরও একজন ছিল বলে মোস্তফা কামাল বলেন । তবে ওই ব্যক্তিকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী । তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিস্তারিত জানা যাবে । আসলে রেহেনা আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যার পর নাটক সাজানো হয়েছে— এ নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নতুনখবর/সোআ

Comments

comments

পাঠকের কিছু জনপ্রিয় খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন জঙ্গি আটক


বিস্তারিত

ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আজ


বিস্তারিত

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদার বিনিময় চলে ইজিবাইক ও অটোরিকশা ।।


বিস্তারিত

ডেমরায় একই পরিবারের আটজন দগ্ধ


বিস্তারিত

দুই লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস তুরস্কের


বিস্তারিত

হারিয়ে যাওয়া সাতশ শিশুর বাবামাকে খুঁজে দিল কামাল


বিস্তারিত

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ


বিস্তারিত

ফোনে প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ মহাসচিবের ধন্যবাদ


বিস্তারিত

আবহাওয়ার উন্নতি, নৌ চলাচল শুরু


বিস্তারিত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আজও যানজট


বিস্তারিত

জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী মিশন এখন বাংলাদেশে


বিস্তারিত

সুষমা স্বরাজ আজ ঢাকায় আসছেন


বিস্তারিত

আবহাওয়া আর অনাহার অসুস্থ করে দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের


বিস্তারিত

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার পেলেন ২ হাজার ৩২৩ জন


বিস্তারিত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ


বিস্তারিত

আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস


বিস্তারিত

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ


বিস্তারিত

বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণ গেল চার রোহিঙ্গার


বিস্তারিত