ঢাকাআজ শুক্রবার ২২শে জুন, ২০১৭ ইং ৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ২৭শে রমযান, ১৪৩৮ হিজরীরাত ৪:২২

26 বার পড়া হয়েছে «

নড়াইলে কালের বিবর্তনে আজ বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সে যুগের পালকি ছিল এ যুগের মোটর গাড়ি

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : নড়াইলে কালের বিবর্তনে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পালকি আজ বিলুপ্তির পথে। পালকি মানুষ বহনের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বাহন। এই বাহনে ১ বা ২ জন যাত্রী নিয়ে ২, ৪ বা ৮ জন বাহক এটিকে কাঁধে তুলে একস্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। পালকি শব্দটি বাংলার সংস্কৃত ‘পল্যঙ্ক’ বা ‘পর্যঙ্ক’ থেকে উদ্ভূত। পালি ভাষায এই যানের নাম ‘পালাঙ্কো’। হিন্দি ও বাংলায় এটি পালকি নামে পরিচিত ছিল। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা এবং চতুর্দশ শতকের পর্যটক জন ম্যাগনোলি ভ্রমণের সময পালকি ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে এবং পরবর্তী সমযে সেনাধ্যক্ষদের যাতাযাতের অন্যতম বাহন ছিল পালকি। আধুনিক যানবাহন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা পালকিতে চড়েই যাতায়াত করতেন। বাংলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিয়েতে ও অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে বর-কনের জন্য পালকি ব্যবহারের প্রথা চালু ছিল। ৭০ বছরের বয়সের বৃধা জানান, ২০ বছর বয়সে পালকিতে চড়ে বাপের বাড়ী ছেড়ে স্বামীর বাড়ীতে এসেছি। বয়স হয়ে গেছে এখন মনে পরে সেই দিনের কথা। গ্রামে বিয়ে হলেই বর কনে কে পালকিতে করে গান গাইতে গাইতে নিয়ে আসতো দেখে খুব আনন্দ পেতাম এখন আর পালকি দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য সব হারিয়ে যাচ্ছে।, নড়াইলের জমিদার বাবুদের রেখেজায়া নাম,না প্রকাশকরা র্সতে বলেন, আমাদের বাপ দাদারা প্রাচীন কাল থেকে পালকি দিয়ে বিবাহের সময় বর-কনেকে বহন করতেন। আমরা এক কালের কলকাতার লোক ছিলাম কাজের তাগিদে বংসের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে আমরাও পালকি চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করার জন্য বাংলাদেশে চলে আসি। এখন আর আগের মতো বিবাহ অনুষ্টানে আমাদেরকে ডাকা হয়না। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হয় আমাদের। মাসে দু”একটা বিবাহে আমাদের ডাক পরে। যা পাই তা দিয়ে কোনমতে সংসার চলে ।পালকি বিভিন্ন আকৃতি ও ডিজাইনের হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোট ও সাধারণ পালকি (ডুলি) দুজনে বহন করে। সবচেয়ে বড পালকি বহন করে চার থেকে আটজন পালকি বাহক। পালকি বাহকদের বলা হয় বেহারা বা কাহার। হাডি, মাল, দুলে, বাগদি, বাউডি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোক পালকি বহন করে। পালকি বহনের সময তারা বিশেষ ছন্দে গান গায়। তাদের চলার গতির সঙ্গে তাল মিলিযে গানের তাল-লয় পরিবর্তিত হয়।
কাঠমিস্ত্রীরা সেগুন কাঠ, শিমুল কাঠ, প্রবৃতি কাঠ দিয়েও পালকি তৈরি করে। বটগাছের বড ঝুরি দিয়ে তৈরি হয় পালকির বাঁট বা বহন করার দন্ড। পালকি সচরাচর তিন ধরনের হযে থাকে যেমন, সাধারণ পালকি, আযনা পালকি এবং ময়ূরপঙ্খি পালকি। সাধারণ পালকি আয়তাকার। চারদিক কাঠ দিযে আবৃত এবং ছাদ ঢালু। এর দুদিকে দুটি দরজা থাকে। কোন কোনটিতে জানালাও থাকে। পালকির বাইরের দিকে আলপনা আঁকা থাকে। ভেতরে চেয়ারের মতো দুটি আসন ও একটি টেবিল থাকে। ময়ূরপঙ্খি পালকির আয়তন সবচেয়ে বড়। এই পালকি ময়ূরের আকৃতিতে তৈরি করা হয় ভিতরে দুটি চেয়ার, একটি টেবিল ও তাক থাকে। এ পালকির বাঁটটি বাঁকানো এবং এর বাইরের দিকে কাঠের তৈরি পাখি, পুতুল ও লতাপাতার নকশা থাকে। সে যুগের পালকি ছিল এ যুগের মোটরগাড়ি অনুরূপ। স্টিমার ও রেলগাড়ি আবির্ভাবের পূর্বে ভারতের গভর্নর জেনারেলও পালকিতে চড়ে যাতায়াত করতেন। উনিশ শতকের প্রথমদিকে ডাক ও যাত্রী বহনের জন্য ডাকবিভাগ ‘স্টেজ পালকি’ চালু করে। এই প্রথা উনিশ শতকের শেষ নাগাদ প্রচলিত ছিল। দূরের যাত্রীরা ডাকঘর থেকে স্টেজ পালকির টিকেট ক্রয় করত। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সমযে ইংরেজরা পালকিতে চড়া প্রায় বন্ধ করে দেয়। তবে উনিশ শতকের শেষাবধি স্থানীয় বাবু এবং অভিজাত শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ যাতায়াতের জন্য পালকিই ব্যবহার করতেন। অবস্থানকালে তাঁর জমিদারি কাচারি পরিদর্শনের সময যে পালকি ব্যবহার করতেন, তা এখন আর জমিদার বাড়ী ধংস করে সেখানে পুলিশ বারাক হয়েছে । সে যুগে স্বছল পরিবারের নিজস্ব পালকি থাকত এবং তাদের ভৃত্যরাই তা বহন করত। সাধারণ মানুষ পালকি ভাড়া করত। উনিশ শতকের চতুর্থ দশকে দাসপ্রথা বিলোপের পর বিহার, উড়িষ্যা, ছোটনাগপুর এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে পালকি বাহকরা বাংলায় আসতে থাকে।

বহু সাঁওতাল পালকি বাহকের কাজ নেয়। শুষ্ক মৌসুমে তারা নিজেদের এলাকা থেকে এদেশে আসত এবং বর্ষা মৌসুমে আবার চলে যেত। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শেষে তারা কয়েকটি এলাকায় যেত এবং কোথাও কোথাও অস্থায়ী কুঁড়েঘর বানিয়ে সাময়িক আবাসের ব্যবস্থা করে নিত।উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে স্টিমার ও নওকা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পালকির ব্যবহার কমতে থাকে। ক্রমশ সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি এবং পশুচালিত যান চালু হলে যাতায়াতের বাহন হিসেবে পালকির ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমাগত প্রসার, সডক ও নদীপথে মোটর ও অন্যান্য যানের চলাচল এবং প্যাডেল চালিত রিকশা জনপ্রয় হওয়ার ফলে পালকির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পালকি বাংলাদেশের অতীত ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবেই পরিচিত। এখন পালকির বদলে মটর গাড়ী দিয়ে বিবাহের বর কনেকে বহন করতে দেখা যায়।

Comments

comments

পাঠকের কিছু জনপ্রিয় খবর

নড়াইলে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে খাল খনন


বিস্তারিত

নড়াইলে ২৪ ঘন্টা অভিযানে চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীসহ ২৪ জন গ্রেফতার


বিস্তারিত

নড়াইলে ডিবির অভিযানে পিচ ইয়াবাও গাঁজাসহ ৩মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার


বিস্তারিত

লোহাগড়ায় সাংবাদিককে ফাঁসাতে নারী নির্যাতন আইনে মিথ্যা মামলা করলেন এক গৃহবধু


বিস্তারিত

নড়াইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল


বিস্তারিত

নড়াইলে গম সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন


বিস্তারিত

নড়াইলে ঐতিহ্যের চিরচেনা বর্তমানে নৌকার কারিগররা অন্য পেশায় ঝুঁকে


বিস্তারিত

নড়াইলে কালের বিবর্তনে আজ বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সে যুগের পালকি ছিল এ যুগের মোটর গাড়ি


বিস্তারিত

প্রতিবেশীকে পানি দিতে না পারো মাদক দিও না’ নড়াইল পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম


বিস্তারিত

নড়াইলে বিদ্যুৎবিহীন ১৩৪টি বিদ্যালয় ডিজিটাল শিক্ষাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা


বিস্তারিত

নড়াইলের বুড়িখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে মুরগির খামারে


বিস্তারিত

নড়াইলে ডিবি পুলিশের পৃথক দু’টি অভিযানে ৬৬ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২


বিস্তারিত

নড়াইলে পার্টস ব্যাবসায়ীকে কুপিয়ে ৬০ হাজার টাকা ছিনতাই


বিস্তারিত

নড়াইলে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত লাশ সনাক্ত থানা মামলা র‌্যাবের সহযোগিতায় ৪ জন গ্রেফতার


বিস্তারিত

নড়াইলে কালবৈশাখীতে বিধ্বস্ত ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে দোকানঘর ও নারকেল গাছের নিচে


বিস্তারিত

নড়াইল লাইব্রেরিতে বই-পত্রিকা সংকট চরমে : বিপাকে পড়ছেন পাঠকেরা


বিস্তারিত

নড়াইলে ডিবি পুলিশের গাড়ি তল্লাশীকালীন সময় ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১


বিস্তারিত

নড়াইল পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেলেন শের-ই-বাংলা স্মৃতি পদক


বিস্তারিত