ঢাকাআজ বৃহস্পতিবার ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ২৮শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরীভোর ৫:৫৮

342 বার পড়া হয়েছে «

নড়িয়ায় মায়ের পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় মেয়েকে হত্যার চেষ্টা, মা গ্রেফতার

হাফিজুর রহমান (শরীয়তপুর)সংবাদদাতা : নড়িয়ায় মায়ের অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় ১৩ বছরের মেয়ে ঐশিকে পুলিশের হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নির্যাতন করে হত্যা চেষ্টা করেছে তার মা রুমি আক্তার রুমা। এ ঘটনায় মেয়ে ঐশি নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ মা রুমি আক্তার রুমাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। রুমার ঘর থেকে পুলিশের এক জোড়া হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ। ঐশি নড়িয়া বিহারী লাল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মেয়ে ঐশী, নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া পৌরসভার ঘোষপাড়া এলাকার সুমন কাজীর স্ত্রী রুমি আক্তার রুমা মেয়ে ঐশি নড়িয়া বিহারী লাল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ও ছেলে রাহাত (৮ কে নিয়ে পৌরসভার বৈশাখী পাড়ার জুয়েল ছৈয়ালের বাড়ীতে ভাড়া থাকতো। তাদেরকে ভাড়া বাসায় রেখে স্বামী সুমন কাজী ৭/৮ বছর ধরে ইটালীতে রয়েছেন। ২০১১ সালে নড়িয়া থানার সাবেক এস আই ফিরোজের সঙ্গে ইটালী প্রবাসী সুমন কাজীর স্ত্রী রুমি আক্তার রুমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ে ঐশিসহ স্থানীয় লোকজন। প্রেমেরে সর্ম্পকই সিমাবদ্ধ থাকেনি। এক পর্যায়ে রুমার সংঙ্গে এস আই ফিরোজের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
এর আগে ও পরে রুমার অনেক ছেলেদের সাথে ছিল অবাধ মেলা মেশা। মায়ের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় মেয়ে ঐশির উপরে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। মা রুমি আক্তার রুমা মেয়ে ঐশিকে পুলিশের হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করতো। ঐশির পায়ে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে নির্যাতনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জনা গেছে। গত মঙ্গলবার মা রুমা ফোনে কথা বলার সময় ফোনে ঝগড়া করে। ঐশি বিষয়টি তার বাবাকে জানাবে বললে মা রুমা ক্ষিপ্ত হয়ে ঐশি ও ছেলে রাহাতকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে পায়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে বটি দিয়ে কোপ দেয়। এতে ঐশির বাম হাতের কনুই কেটে যায়।এতে ঐশির  হাতে ১১টি শিলি দেয়া হয়। এর আগে রুমা ঢাকায় বাসা ভাড়া করে থাকা কালিন সময়ে একই কারণে ঐশিকে চটা গড়ম করে পায়ে ছেকা দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকে গত মঙ্গলবার হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়
পরে (১৮মে) বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐশি পালিয়ে নড়িয়া থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে তার উপর চলা অমানুষিক নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে মায়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুমা পূনরায় মেয়েটির পায়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নির্যাতন করতে থাকলে স্থানীয়রা নড়িয়া থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মাকে আটক করে নড়িয়া থানায় নিয়ে আসে। এর পর নড়িয়া থানা পুলিশ রুমার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশের এক জোড়া হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করে। শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত রুমাকে ৩দিনের রিমান্ড চেয়ে শরীয়তপুর কোর্টে প্রেরণ করে।
মেয়ে ঐশী বলেন, গত মঙ্গলবার মা কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিল এবং তার সাথে ফোনের মধ্যে ঝগড়াও হয়। ফোন রেখে আমাকে ও আমার ছোট ভাই রাহাত (৮) কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ পায়ে হ্যান্ড কাপ দিয়া বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকী দিয়া বলে যে তুই যদি এই ঘটনা কাউকে জানাস তাহলে তোকে জানে মেরে ফেলবো। আমার পা থেকে হ্যান্ড কাপ খুলে দিতে বললে এবং এই ঘটনা আব্বু কে জানাইতে চাইলে আমার উপর ক্ষীপ্ত হইয়া বটি দিয়া বাম হাতে কোপ মারিলে আমার বাম হাতের কনুইর উপরের অংশে কোপ লাগে। এর পর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাইয়া আমাকে বাসায় এনে আটকে রাখে। পরের দিন আমি হাতের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে বলছি যে আব্বু কে জানিয়ে দিব। এর পর ছোট ভাই রাহাত কে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে গেলে আসে-পাশের লোকজন এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে। আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। এর আগেও আমরা যখন ঢাকা থাকতাম তখন চটা গরম করে আমার পায়ে ছেকা দিয়ে পুড়ে দেয়। এজন্য মাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি। পুলিশের হাত কড়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে ঐশী বলে, এটা দারোগা ফিরোজ আঙ্কেলের। সে যখন আমাদের বাসায় আসতো তখন রেখে গিয়েছিল।

নড়িয়া থানা সাবেক এস আই ফিরোজ মোবাইল ফোনে বলেন, আমি তাদেও পাশের বাসায় থাকতাম। তার সাথে আমার কোন সর্ম্পখ ছিলনা। হ্যান্ডকাপের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঐ বাসায় এস আই পারভেজ ভাড়া থাকতেন। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার সম্মান খুন্ন করার জন্যই কেউ অপপ্রচার করছে।
নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, প্রাথমিক ভাবে মেয়েটিকে নির্যাতনের প্রমান পাওয়া গেছে। রুমার বাসা থেকে এক জোড়া হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ঐশির অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রবাসীর স্ত্রী রুমি আক্তার রুমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ঐশির অভিযোগটি আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে  নড়িয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়।

নতুনখবর/সোআ

Comments

comments

পাঠকের কিছু জনপ্রিয় খবর

টাঙ্গাইল থেকে ডেকে এনে ঢাকায় কিশোরীকে ধর্ষণ


বিস্তারিত

পার্বতীপুরে কিশোরী ধর্ষিত


বিস্তারিত

৯ মাসের শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করলো বাবা


বিস্তারিত

বিবাহিত হয়ে বিজিবি সিপাহী মতিনের চাকুরী নেওয়া সহ একাধিক বিয়ের প্রতরনার অভিযোগ


বিস্তারিত

গাছে বেঁধে গৃহবধূ নির্যাতন: গ্রেপ্তার ৮


বিস্তারিত

উত্তরায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার ।।


বিস্তারিত

সাভারে দুই মডেল তরুণীকে গণধর্ষণ গ্রেপ্তার ২ ।।


বিস্তারিত

বনানীতে আবার জন্মদিনের কথা বলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ


বিস্তারিত

ছয়লক্ষ টাকা যৌতূক দেওয়ার পরও, গৃহবধুকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ।।


বিস্তারিত

মাদারীপুরে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার ।।


বিস্তারিত

টঙ্গীতে এক ওয়ার্কশপ শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা ।।


বিস্তারিত

নড়িয়ায় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের শারিরিক ও যৌন হয়রানীর অভিযোগ


বিস্তারিত

নড়িয়ায় মায়ের পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় মেয়েকে হত্যার চেষ্টা, মা গ্রেফতার


বিস্তারিত

বংশালে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ


বিস্তারিত

সাভারে দেবরের হাতে ভাবী খুন


বিস্তারিত

ডাক্তার নার্স ছাড়াই চলছে হেমায়েতপুর জেনারেল হাসপাতাল


বিস্তারিত

নেত্রকোনায় সমাজকল্যাণ সমিতির নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


বিস্তারিত

বই কিনতে হোটেলে চাকরি, মজুরি চাওয়ায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের


বিস্তারিত