ঢাকাআজ বুধবার ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরীসন্ধ্যা ৬:১২

194 বার পড়া হয়েছে «

ডাক্তার নার্স ছাড়াই চলছে হেমায়েতপুর জেনারেল হাসপাতাল

সিরাজুল ইসলাম: সাভারের হেমায়েতপুর ঋষিপাড়ার সিংগাইর রোড়ের পাশেই বিশাল সাইনবোর্ড লেখা হেমায়েতপুর জেনারেল হাসপাতাল। বোর্ডে ডেন্টাল ইউনিট, চক্ষু ইউনিট ও ফিজিওথেরাপী লেখাগুলোও ছিল বেশ চোখে পড়ার মত। কিন্তু চক চক করলেই যেমন সোনা হয় না তেমনি সাইনবোর্ডের লেখা দেখেও বিচার করার দিন এখন শেষ। তার প্রমাণ মেলল হাসপাতালের ভিতরে ঢোকে। বিছানায় রোগীরা ছটফট করছে কিন্তু একজন ডাক্তারের সন্ধানও পাওয়া গেল না। রিসিপশনে বসে থাকা হাসপাতালটির মালিকের ছোট ভাই রাকিবের কাছে এর কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে দুইটি নার্স । একজন ছুটিতে আছে, আরেকজন আশেপাশেই আছে। কোন ডাক্তার আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ডাক্তার একটু বাইরে গেছেন।
সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, হাসপাতালটির মালিক হারুন -অর- রশীদ হাসপাতালটি নেওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম নিয়ে  তাল বাহানা করে আসছে। দলীয় কোন এক নেতার হুমকি দেখিয়েও চলেন বলে অনেকের অভিযোগ। অনেক জরুরী অপারেশনও এখানকার নার্সরা করে থাকেন।
ঐ এলাকার জয়নাবাড়ির রোগী নুরুন্নাহারের ছেলে রাকিব বরেন, আমি আমার মাকে নিয়ে গতকাল আটটায় এসেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন ডাক্তারকেও পাই নি। এ যেন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক অনন্য ব্যবসা।
এদিকে হাসপাতালটির জায়গার মালিক গৌর বল্লভ মনিদাস বলেন, চিকিৎসা সেবার মত একটি মহান পেশার জন্য আমি জায়গাটা ভাড়াি দয়ে ছিলাম। কিন্তু এখানে সবকিছুতেই চরম অনিয়ম দেখে আমি বিস্মিত হই। বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে রোগী এনে স্টাফদের দিয়ে চলে তাদের চিকিৎসা। নাম ঠিকানা লিখতে পারে না এমন লোকদের দিয়ে করাচ্ছে বিভিন্ন ড্রেসিং ,সেলাই।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত বিদুৎ বিল পরিশোধ না করার কারনে এখানে কোন বিদুৎ সংযোগ নেই। ২৪ ঘন্টা হাসপাতালের সামনে জেনারেটর চালিয়ে সাধারণ জনজীবনে দূর্ভোগ বাড়াচ্ছে। প্রথম প্রথম আমার ভাড়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করলেও এখন প্রায় চার লক্ষ টাকার মত ভাড়া বাকি রইছে। বার বার তারিখ দিয়ে এমন কী অঙ্গিকার নামা দিয়েও সে কথা রক্ষা করেন নি।বরং সংখ্যালঘ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ার বার বার আমাকে হুমকি দিযে আসছে টাকা দিবে না বলে।
নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য তিনি সাভার মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করান (জিডি নং-৬৯৪)।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মালিক হারুন-অর-রশীদ পুলকের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি হাসপাতালে এসে কথা বলবেন বলে জানান। কিন্তু তার কিছুক্ষন পর থেকে রিপোর্টটি লেখার আগ পর্যন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, পরে রাত ১২টার দিকে এলাকার জনগন তাকে আটক করে থানায় প্রেরণ করেন। বিভিন্ন মহলে উৎকোচ দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কৌশলে এ হাসপাতাল পরিচালনা করে আসছেন তিনি। এ ব্যাপারে চিকিৎসার নামে এমন মানুষ ঠকানোর ব্যবসা বন্ধের দাবীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী ।

নতুনখবর/সোআ

Comments

comments

পাঠকের কিছু জনপ্রিয় খবর

ছয়লক্ষ টাকা যৌতূক দেওয়ার পরও, গৃহবধুকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ।।


বিস্তারিত

মাদারীপুরে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার ।।


বিস্তারিত

টঙ্গীতে এক ওয়ার্কশপ শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা ।।


বিস্তারিত

নড়িয়ায় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের শারিরিক ও যৌন হয়রানীর অভিযোগ


বিস্তারিত

নড়িয়ায় মায়ের পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় মেয়েকে হত্যার চেষ্টা, মা গ্রেফতার


বিস্তারিত

বংশালে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ


বিস্তারিত

সাভারে দেবরের হাতে ভাবী খুন


বিস্তারিত

ডাক্তার নার্স ছাড়াই চলছে হেমায়েতপুর জেনারেল হাসপাতাল


বিস্তারিত

নেত্রকোনায় সমাজকল্যাণ সমিতির নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


বিস্তারিত

বই কিনতে হোটেলে চাকরি, মজুরি চাওয়ায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের


বিস্তারিত